মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর দাবিতে রাজশাহীতে নগর ভবন ঘেরাও

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৩০ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহীঃ 

অসহনীয় ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) অধীনে নির্মাণাধীন দারুচিনি প্লাজা, স্বপ্নচূড়া ও সিটি সেন্টার আগের মূল নকশায় সম্পন্ন করে হস্তাতরের দাবিতে নগর ভবন ঘেরাও করেছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

রবিবার সকালে নগরীর গোরহাঙ্গা নিউমার্কেট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ নগর ভবন।ঘেরাও করেন। এ সময় তারা নগর ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে নির্মাণাধিন তিনটি বাণিজ্যিক ভবন সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের গৃহীত নকসা অনুযায়ী সম্পন্ন করে তা অর্থ লগ্নীকারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়।

একইসঙ্গে নগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘির অস্তিত্ব রক্ষা, অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে ভূবন মোহনপার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মুক্ত করে সৌন্দয্যবর্ধন,মাদকের আখড়া বন্ধ ও সেখানে নির্মিত গণশৌচাগার অন্যত্র সরানোর জোর দাবি জানান এবং বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। ট্যাক্স এর নামে রাজশাহীবাসির কাছে অসহনীয় এক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে রাসিক। মাত্রাতিরিক্ত এ হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ সম্পূর্ণ অবৈধ। অবৈধ এ হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে নগরবাসিকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এ ট্যাক্স কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান বক্তারা।

সংগ্রাম পরিষদ ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী ও মার্কেটে অর্থ লগ্নিকারী ব্যবসায়ীরাও অংশ নেন।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ ঘেরাও কর্মসূচীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে রাজশাহীবাসী আরো কঠোর কর্মসূচি পালন করবে বলেও হুশিয়ারি দেয়া হয়।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ।সমাবেশে অন্যদের মধ্যে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, সাংগাঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি হারুনার রশিদ, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. আবদুল মান্নান, আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু প্রমূখ বক্তব্য দেন।

সমাবেশ থেকে বলা হয় রাজশাহী সিটি করপোরেশন হঠাৎ করেই নাগরিকদের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করে নগরবাসীর মাথায় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ট্যাক্স কমানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বক্তারা অবিলম্বে বর্ধিত কর বাতিলের জোর দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের শেষের দিকে রাসিক নগরীতে একটি ক্লিনিক ও ৭টি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যেগ নেয়। ২০১৪ সালের মধ্যে কাজগুলো শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ওই ভবনগুলো এখন নির্মাণাধীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে কাজগুলো শেষ করার কথা থাকলেও এখনও তা সম্ভব হয়নি।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৫-০৬-২০১৭ইং/ অর্থ