মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির নতুন কৌশল : আতঙ্কে জনসাধারণ

Muktijoddhar Kantho ৭০ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

আজিজুল হাই সোহাগ, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :

ঈশ্বরগঞ্জে খাবারে অজ্ঞান করার স্প্রে করে বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার আঠারবাড়ীতে পরপর চারটি বাসায় পরিবারের সদস্যদের অজ্ঞান করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। খাবারে ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ ধরনের তৎপরতা এলাকায় নতুন।

উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়বাজার ধানমহাল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন প্রাণিসম্পদ সহকারী মো. আবদুল মুকিত। তিনি ১৫ বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধানমহালের লুৎফুর রহমানের বাসায় ভাড়া থাকেন। শনিবার রাতের কোনো এক সময় আবদুল মুকিতের বাসার বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বারান্দায় রাখা সেহরির খাবারে অজ্ঞান হওয়ার অষুধ স্প্রে করে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতের বেলায় সেহরি খাওয়ার পর আবদুল মুকিত, তার স্ত্রী সাইদা নাহার, দুই মেয়ে ফাহিমা আক্তার মিলি ও ফাহমিনা আক্তার মিম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ওই সুযোগে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তের দল বাসার পেছনের জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে স্টিলের আলমারি ও ওয়্যারড্রোব ভেঙে নগদ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও সাড়ে ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। পরিবারের সব সদস্য অজ্ঞান হয়ে থাকলে ফাহমিনা আক্তার মিমের দুই বছর বয়সী মেয়ে ফাউজিয়ার কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে সকালে তাদের অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে গত বুধবার হাসপাতাল থেকে তাদের ছারপত্র দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে  আঠারবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. আবদুল মুকিত। এদিকে ২৯ মে রাতে আবদুল মুকিতের প্রতিবেশী ব্যবসায়ী নুরুল আমীন তালুকদারের বাসায়ও একই কায়দায় চুরি হয়। নুরুল আমীন তালুকদার ও তার স্ত্রী লিপা আক্তারকে খাবারে ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। অজ্ঞান অবস্থায় প্রতিবেশীরা নুরুল আমীন ও তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। অন্যদিকে আঠারবাড়ী গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র বণিকের বাসায় গত মে মাসের শেষের দিকে খাবারে ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু নারায়ণ চন্দ্র বণিক খাবার না খাওয়ায় তিনি সুস্থ থাকেন। তার স্ত্রী রত্না বণিক, দুই ছেলে জুয়েল বণিক ও জীবন বণিককে অজ্ঞান অবস্থায় ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়। একই সপ্তাহে আঠারবাড়ী ইউনিয়নের খালবলা বাজার এলাকার দীঘালিয়া গ্রামের বিমল চন্দ্র সাহা, তার মা কাঞ্চন মালা ও স্ত্রী সুপ্রিয়া রানী সাহাকে খাবারে অজ্ঞান করার ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে তাদের বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।

আঠারবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই খন্দকার আল মামুন বলেন, খাবারে ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে চুরির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৯জুন২০১৭ইং/নোমান