মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

কিশোরগঞ্জের হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে এরশাদ উদ্দীনের ত্রাণ বিতরণ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৭৫ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক: 

কিশোরগঞ্জের হাওরা লের কৃষকদেও পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন করিমগঞ্জে ন্যামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. এরশাদ উদ্দিন। স্থানীয়রা জানান, হাওরে ফসলহানির শিকার হলেও এতোদিন কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি জেলার করিমগঞ্জের গুণধর ইউনিয়নের ইন্দাচুল্লি গ্রামের কৃষকেরা। ফসল হারিয়ে নিঃস্ব গ্রামের কৃষক পরিবারগুলোতে চলছিল ঘোর দুর্দিন। ঠিক মতো দু’বেলা দু’মুঠো আহার দূরে থাক রোজার দিনে সেহরি-ইফতার নিয়েও চরম সংকটে ছিলেন অনেকেই। তাদের এই অবর্ণনীয় দুরবস্থায় পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন করিমগঞ্জে ন্যামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. এরশাদ উদ্দিন। রবিবার ইন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তিনি ইন্দাচুল্লি গ্রামের ফসলহারা ১০০ কৃষকের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। ত্রাণসামগ্রী হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ কৃষককের প্রত্যেককে ১৫ কেজি করে চাল, এক কেজি করে ডাল এবং এক কেজি করে তেল দেয়া হয়।

শিল্পপতি আলহাজ্ব মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, ফসল হারিয়ে ইন্দাচুল্লী গ্রামের কৃষকেরা খুবই দুরবস্থার মধ্যে রয়েছেন। মানুষের এই মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি তাঁর কর্তব্য মনে করেছেন। এজন্যেই তিনি তাঁর সাধ্যমতো সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

ত্রাণ বিতরণের সময় কথা হয় ইন্দাচুল্লী গ্রামের ফরিদ মিয়ার স্ত্রী মরিয়মের সঙ্গে। তিনি জানান, পাঁচ একর জমি করেও সংসারে অভাবের কারণে স্বামী ফরিদ মিয়া কাজের খোঁজের এখন বাড়িছাড়া। দুই সপ্তাহ আগে ফরিদ মিয়া বাড়ি ছাড়লেও এখনো কোন টাকা-পয়সা পাঠাতে পারেননি। খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছিল পরিবারের পাঁচ সদস্যের। এ পরিস্থিতিতে এই ত্রাণ সহায়তা পেয়ে চোখে-মুখে আনন্দের আভা যেন ঠিক্রে পড়ছিলো তার। মরিয়ম বললেন, ‘অহন শান্তিমতন কয়ডা দিন চলতা পারমু। খাঅনের লাগি পোলাপাইনের কান্দন অ অহন থামব।’

ইন্নাচুল্লী গ্রামেরই মুসলিম মিয়ার স্ত্রী রহিমা খাতুন জানালেন, সুখের আশায় ধারদেনা করে জমি চাষ করে এখন তারা পড়েছেন অকূলপাথারে। ঘরে চাল নেই। কোন সাহায্য-সহযোগিতাও তারা পাননি। এমন দুরবস্থায় এই ত্রাণ সহায়তা পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তিবোধ করছেন তিনি।

গ্রামের এলু মিয়া বলেন, দেড় একর জমি করছিলাম। এক মুইট ধানও পাইছি না। খাইয়া না খাইয়া দিন যায়। হেরা আইজক্যা চাইল, ডাইল, তেল দিছে। আমারটাই আইজকাই ঈদ ঈদ লাগতাছে।

ত্রাণসামগ্রী নিতে আসা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রায় সবাই একইভাবে তাদের স্বস্তি প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী শিল্পপতি আলহাজ্ব মো. এরশাদ উদ্দিন তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে গত ৬ই জুন হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলার এক হাজার কৃষকের মধ্যেও অনুরূপ ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় করিমগঞ্জ উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মাহফুজুর রহমান সরকার পল্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জিল মোল্লা, করিমগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আওয়াল, উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম শাহজাহানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৮-০৬-২০১৭ইং/ অর্থ