কলেজ ছাত্র শাকিল হত্যার আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহী :
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধূরইল ইউনিয়নে জমি- জমা সংক্রান্ত জের ধরে প্রতিপক্ষের মারপিটে কলেজ ছাত্র শাকিল হত্যার আসামীদের গ্রেফতার ও সঠিক বিচারের দাবী জানিয়েছে হত্যাকান্ডের শিকার সাকিলের পরিবার।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী মেট্রপলিটন প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত শাকিলের পিতা মজিবর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে নিহতের পিতা বলেন, পরিকল্পিতভাবে হত্যাকারীরা ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর ভোর আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে শাকিলকে হত্যা করা হয়। তাদের টিনের ছাপড়া ঘরে প্রবেশ করে হাতে দা, লাঠি, বল্লম, শাবল, লোহার রড নিয়ে টিনের ঘর ভাংচুর করতে থাকে। ভাংচুর এর শব্দ শুনে রাজশাহী সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র শাকিল হত্যাকারীদের বাধা দেয়।
এসময় আতাউর রহমান লোহার রড দিয়ে শাকিলের মাথার পিছনে আঘাত করে। গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে এলোপাথারীভাবে মারপিট করতে থাকে। এ সময় শাকিলের বাবা মজিবর, মা সামোর্ত বানু, ফুফু ফেরদৌসী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়।
এলাকাবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ(রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। চিকিৎসারত অবস্থায় ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর কলেজ ছাত্র শাকিলের মৃত্যু হয়। ওই দিনই শাকিলের পিতা বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় ১৫ জনকে আসামী করে
হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আসামীরা হলেন আতাউর রহমান (৪৫), মুকুল হোসেন(৩৫), বাবু (১৯), মুকলেসুর রহমান(৩৫), মন্টু(৫০), এরশাদ হোসেন(৪০), জাফর(৫৫), আব্দুস সালাম (৫০), আমিনুল ইনলাম (৫০), বকুল (৩৮),আফজাল হোসেন (৩৩),আক্কাস আলী (৪০), আশরাফুল হোসেন(২৪), আন্টু(৪৮), লিখন(২৫)।
ওই দিনই স্থানীয়রা ধূরইল বাজার হতে আসামী আতাউর রহমানকে আটকে রেখে পুলিশে সোর্পদ করেন। এর পর থেকে আর কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কিছুদিন পর মামলা তদন্তে অগ্রগতি না হলে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর হলেও অদ্যবধি কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলাকে ভিন্নখানে প্রভাহিত করার চেষ্টা করছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে ঘুরে বেড়ালেও গ্রেফতার না হওয়ায় আসামীরা নিহতের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে দিনমজুর মজিবর রহমান আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহত শাকিলের মা সামোর্ত বানু, ছোট ভাই সম্রাট, ফুফু ফেরদৌসী, বকুল এবং আব্দুল মান্নান।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৪–জুলাই–২০১৭ইং/নোমান