মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় দিনভর তালা : দু পক্ষের উত্তেজনা

Muktijoddhar Kantho ৮৭ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহী :

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আন্দোলনরত কর্মচারীদের তালায় বন্ধ শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাসিক পরিচালিত এই চিড়িয়াখানার তিনটি গেটে তালা লাগায় কর্মচারীরা।

তবে বেলা ৪টার দিকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন।তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশের চেস্টা করলে কর্মচারিদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বকেয়া পাওনা পরিষদ ও বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাসিকের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় কর্মচারীরা। একই সময় তারা চিড়িয়াখানা ও রাসিকের গ্যারেজেও তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা।এতে নগর ভবনসহ রাসিকের এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে দিনভর রাসিকের কোন কার্যক্রম হয়নি।

চিড়িয়াখানার মনিটরিং অফিসার শেখ আবু জাফর বলেন, সকালে রাসিকের শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা চিড়িয়াখানার তিনটি গেটে তালা
ঝুলিয়ে দেয়। ফলে তারা টিকিট বিক্রি করতে পারেনি। হাজার হাজার দর্শনার্থীরা এসে গেট থেকে ফিরে গেছে বলে জানান তিনি।

আবু জাফর আরও বলেন, বেলা ৪টার দিকে চিড়িয়াখানার ভেতরের ব্যবসায়ীরা গেটের তালা ভাঙেন। এরপর ভেতরে কিছু দর্শনার্থী প্রবেশ
করে। তবে কিছুক্ষণ পর রাসিকের ২০-২৫ জন শ্রমিক দিয়ে আবার তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ দর্শনার্থীদেরও চিড়িয়াখানার ভিতর থেকে বের করে দেয় বলে জানান তিনি।

চিড়িয়াখানার ভেতরের বোট রাইডের ইজারাদার নুরুজ্জামান বলেন, এক দিন চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় তার কমপক্ষে দুই হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। অন্য ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। সকাল থেকে দর্শনার্থীদের অন্তত ৮- ১০টি বাস ফিরে গেছে। যারা দূর- দূরান্ত থেকে এসেছিলেন বলে জানান তিনি।

রাসিকের বিনোদন কেন্দ্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু বলেন, মানুষের বিনোদনের
জায়গা বন্ধ করে আন্দোলন খুবই  দুঃখজনক। তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। আগামি রোববার সিটি মেয়রের সঙ্গে কর্মচারিদের আলোচনায় বসার কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কাউন্সিলর কামরু আরও বলেন, কর্মচারিদের ১১ দফা দাবির মধ্যে ৯টিএরই মধ্যে মেনে নেওয়া আশ্বাস দেয়া হয়েছে। যে দুটি বিষয়ে রাসিকের কর্তৃপক্ষের আপত্তি রয়েছে তার একটি বেতন বৃদ্ধি এবং অপরটি কর্মচারিদের শোকজ বা চাকরিচ্যুত করা। আয় না থাকার কারণে বেতন বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। আর শোকজ না করার দাবি শ্রমিকদের অযৌক্তিক।

তিনি আরও বলেন, চিড়িয়াখানা থেকে এবার ঈদে পরের মাত্র পাঁচ দিনেই ২১ লাখ টাকা আয় করেছে সিটি করপোরেশন। এখন বর্ষা মৌসুমে
দর্শনার্থী কম হলেও এক দিন বন্ধ থাকায় কমপক্ষে এক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আর চিড়িয়াখানার আয় থেকেই অস্থায়ী কর্মচারিদের বেতন পরিশোধ করা হয়। তাই চিড়িয়াখানায় তালা ঝুললে সংকট আরও বাড়বে বলেন তিনি।

রাসিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখ বলেন, গেল বছরের ২৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত দক্ষ নিয়মিত কর্মচারিদের দৈনিক ৫০০ টাকা এবং অদক্ষ অনিয়মিত কর্মচারীদের প্রতিদিন ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গেল এক বছরেও করপোরেশন কর্মচারিদের দৈনিক মজুরি বাড়ায়নি। তাই তারা এই আন্দোলন করছেন।

তিনি বলেন, ১১টি দাবির মধ্যে ৯টি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়ার কথামরাসিকের পক্ষ থেকে বলাও তা পুরতন। আশ্বাস এর আগেও একাধিকবার আশ্বাস দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ জন্যই আন্দোলন এবার আরও ‘জোরদার’ করা হয়েছে। নগর ভবন ছাড়াও
চিড়িয়াখানা ও গ্যারেজেও তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৯জুলাই২০১৭ইং/নোমান