“মৌসুমী ফলে বিষ”-প্রশাসন নির্বিকার
শাহাদাত হোসাইন সাদিক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় প্রতিদিনের ন্যায় ১০-১৫টি ফলের ট্রাক আনলোড করা হয়। এর বেশীর ভাগই মৌসুমী জাতীয় ফল আম এবং কাঁঠালের। দোকানীরা এ সু-স্বাদু ফল মন মাতানো ভাবে সাজিয়ে রাখেন ক্রেতাকে আকর্ষিত করার জন্য। গৃহ্বধু ডলি বেগমের মেঝো মেয়ে মাকছুদুল তহুরা (৩) ইশাকে নিয়ে বাজারে আসছিল ডাক্তার দেখাতে। মেয়েটি বাহারী রং এর ফল দেখে মায়ের সাথে ফল খাওয়ার বায়না ধরল। সে সুবাদে তার মা ৫ কেজি বাহারী রং এর আম খরিদ করল এবং সাথে একটি কাঁঠালও। বাসায় নিয়ে ছেলে মেয়েদের ফলগুলো খেতে দিল। আনন্দে দিশেহারা ছেলেমেয়েরা ফল খেয়ে রাতের বেলায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। মা হতাশ হয়ে তার সন্তানদেরকে হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন।
ডাক্তারের সাথে আলাপ কালে গৃহবধু বলেন, বাজার থেকে আম এনে বাচ্চাদেরকে খেতে দেই এবং আম খাওয়ার পর থেকেই বাচ্চাদের পেট ব্যাথা হচ্ছিল এবং কিছুক্ষণ পর তাদের বুমিও হলো। উত্তরে ডাক্তার হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন।
ডাক্তার জানালেন, মৌসুমী ফলে ফরমালিনের কারণে বাচ্ছাদের এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। তিনি এ সকল ফল খাবার থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দেন। রায়পুর বাজারে প্রায় ১৫০টিরও বেশী মৌসুমী ফল দোকান রয়েছে। তারা সরকারী আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ ফরমালিন মিশেয়ে যাচ্ছে অহরহ। এদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি। যার ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আম, কাঁঠাল ও আনারসে নিষিদ্ধ ফরমালিন মিশিয়ে এগুলোকে মাসের পর মাস অমর করে রেখেছেন। আগে দেখা যেত সাধারণত মাছির ভনভন শব্দে কান ঝালা পালা করত । কিন্তু মাছি ভনভন করানো জন্য এখন নব্য কৌশল হিসেবে ফলের উপর আখের গুড় ব্যবহার করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শায়েলা জাহার শিমু বলেন, মৌসুমি ফল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আল্লাহ তায়ালা মৌসুমি ফল দিয়ে মানুষের উপকার করছেন। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এ সকল ফলে ক্যামিকেল দিয়ে মানুষের স্বাস্থকে মারত্মক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এদের কঠিন আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া উচিত। হাসপাতালে এ ধরনের রোগী প্রায়ই আসতে দেখা যায়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায় বলেন , শীঘ্রই মৌসুমী ফলে ফরমালিন ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৫–জুলাই–২০১৭ইং/নোমান