দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও নিরক্ষরতা ছেয়ে গেছে জলঢাকার একটি আবাসন
মোস্তাকিম বিল্লাহ, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর জলঢাকা খুটামারা হরিশচন্দ্রপাঠ পূর্বপাড়া আবাসন কেন্দ্রটি বর্তমানে মুখ থুবরে পড়েছে। দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও নিরক্ষতার শিকার এখানকার বসবাস কারীরা। দারিদ্র দূরীকরণে ভুমিহীনদের স্বচ্ছলতায় ফিরে আনার জন্য যে কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছে সেখানে সরকারি সুযোগ-সবিধা নেই বললেই চলে। বসবাসরত শতাধিক পরিবার পরিজন নিয়ে প্রথম দিকে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা ধুলিৎসাত হয়েছে। ভাঙ্গা-গড়ার জীবনে আবাসন বাসীরা তাদের পরিবার নিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছে।
প্রায় ৬০টি পরিবার জীবিকা নির্বাহের তাগিদে আবাসন ছেড়ে অনত্র স্থান নিয়েছে। অবকাঠামোগত যেসব নির্মাণ শৈলি স্থাপন করা হয়েছে তার অর্ধেকেই পরিত্যক্ত ও অকেজো হয়ে পড়েছে। সেখানে নেই কোন চিকিৎসা সেবা, কর্মসংস্থানের অভাব, নিরক্ষরতা, দারিদ্র ও অপুষ্টি আষ্টে-পিষ্টে লেপে গেছে। এখানকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা বছরেও খোঁজ খবর রাখে না আবাসন বাসীদের। জীবন যুদ্ধের সন্ধিক্ষনে হা-হুতাশে কাটছে তাদের জীবন।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গেলে পাঁচ থেকে দশ বছরের শিশুদের কঙ্কাল হাড্ডিসার দেখা গেছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে এরা সকলেই অপুষ্টির শিকার। হবিবর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন, তৈয়র আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম, হোসেন আলীর ছেলে শামসুল হক, চিনিরাম রায়ের স্ত্রী কল্পনা রানী ও জাহিদুলের স্ত্রী হোসনেয়ারা জানান, দীর্ঘ দিন আমরা এখানে বসবাস করছি সরকারি-বেসরকারি কোন সুযোগ সুবিধা এখানে নেই। আমাদের সন্তানেরা স্কুলে যেতে পারে না। ভাবছি এখানে থাকলে না খেয়ে মরে যাব।
তাছাড়া এনজিও রা আবাসনে থাকার কারণে ঋণ দিতে ইচ্ছুক নয়। আবাসনের সভাপতি বলরাম দাস বলেন, ২০০৪ সালে আবাসন কেন্দ্রটি তৈরি হলেও এর কোন খোঁজ খবরে নেই সরকারি আমলাদের কাছে। বর্তমানে যারা বসবাস করে তারাও এ স্থান ত্যাগ করতে ইচ্ছুক। প্রয়োজন একটু মাথা গোজার ঠাই ও কর্মসংস্থান।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৬-আগস্ট–২০১৭ইং/নোমান