মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

শিশু ধর্ষন, শিশু নির্যাতন, হত্যা বন্ধে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৮৯ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ
মোঃ মেহেদী হাসান, গাইবান্ধা থেকে ।।
পত্র-পত্রিকায় যে খবর গুলো অনেক সময় ই আড়ালেই থেকে যায় তার মাঝে একটি হলো শিশু ধর্ষণ। শিশু ধর্ষণ একটা ব্যাধি, একটা জাতীয় ব্যাধি। সুষ্ঠু বিচার এবং তদন্তের অভাবে পার পেয়ে যায় অপরাধীরা। বাংলাদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার করা প্রতিবেদনগুলো বলছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশু ধর্ষণের কোন মামলাই করা হয় না, যারা মামলা করে তারাও ন্যায় বিচার পেয়েছে এমন উদাহরণ হাতেগোণা। বিএসএএফের তথ্য বলছে, এ বছরের প্রথম তিন মাসে মোট ১৪৫টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৬ সালে একই সময়ে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ছিল ৯৬টি। অর্থাৎ, তিন মাসে ৪৯টি বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি, একই সময়ে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি। একই সময়ে গত বছরে এই সংখ্যা ছিল ১২। গত বছরের তুলনায় এ পরিসংখ্যান বৃদ্ধি পেয়েছে ৫১ শতাংশ। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে শিশু ধর্ষণের মোট ঘটনা ছিলো যথাক্রমে ৫২১ ও ৪৪৬ টি।
এই অপরাধ ক্রমেই ভয়াবহ আকার লাভ করছে, জেলা, উপজেলা এবং গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতার এবং শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হলে এ অপরাধ ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে এবং হুমকির মুখে পড়বে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা। এ বিষয়ে যদি সরকার এখনই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয় তবে অপরাধীরা এসব অপরাধে আরো বেশি যুক্ত হবে, শিশুরা বড় হবে এক বিকৃত মানসিকতা নিয়ে।
শিশু অধিকার লংঘন, শিশু হত্যা, নির্যাতন ধর্ষণ এসব বিষয় সমাধানে যুগোপযোগী এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে এনসিটিএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৬ আগষ্ট, বাংলাদেশে ৬৪ জেলার ন্যায়ে গাইবান্ধায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে এনসিটিএফ গাইবান্ধা জেলা কমিটির সদস্যরা।
দুপুর ১২ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল এর নিকট স্বারকলিপি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিটিএফ গাইবান্ধা এর সভাপতি জান্নাতুল মাওয়া, সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান, শিশু গবেষক ওয়াহেদুজ্জামান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান অন্তর, সিপিএম সৃজন, জেলা ভলান্টিয়ার তাওহীদ তুষার।
এসময় জেলা প্রশাসক স্বারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট পাঠানোর ব্যবস্থা নেন এবং গাইবান্ধা জেলায় যাতে শিশু ধর্ষন বা শিশু নির্যাতন না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখার এবং এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জেলা প্রশাসককে জানানোর জন্য পরামর্শ দেন।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৬-০৮-২০১৭ইং/ অর্থ