মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

আখাউড়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৮ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

সাইমুন আহমেদ রবিন, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ব্যাংক থেকে খড়মপুর মাজার শরীফের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মাজার কমিটির এক সদস্যের নামে ইস্যুকৃত চেকে ওই সদস্যের স্বাক্ষর না নিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন মাজার কমিটির সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন খাদেম।

তিনি নিজেই চেকে ওই সদস্যের নামে স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন। গত ৯ আগস্ট আখাউড়াস্থ সোনালী ব্যাংক শাখায় মাজার শরীফের একাউন্ট থেকে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৭৩ টাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু চেক ভাঙানোর বিষয়টি তিনি রহস্যজনক কারণে গোপন রাখেন।

বিষয়টি জানতে পেরে কমিটির সদস্য কাজী হান্নান খাদেম মাজার কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে মাজার সম্পাদকের এহেন জালিয়াতির কথা প্রচার হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও রুহুল আমিন খাদেম সম্পাদকের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাজার শরীফের সম্পদের অপচয় এবং বাজেট বহির্ভূত অতিরিক্ত খরচ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খড়মপুর কল্লাহ শহীদ (রঃ) মাজার শরীফের পুকুরের বাউন্ডারীর উপর এসএস পাইপের মাধ্যমে জিআই তারের জালি ফিটিং কাজ বাস্তবায়নের জন্য কমিটির সদস্য কাজী হান্নান খাদেমকে আহবায়ক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। প্রস্তাবিত কাজের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৭৩ টাকা।
ওই কাজ বাস্তবায়নের জন্য কমিটির সদস্য কাজী হান্নান খাদেমের নামে চেক ইস্যু হয়। চেক নং ৬৫২৮৯১৪। কিন্তু মাজার কমিটির সম্পাদক মো: রুহুল আমিন কাজের আহবায়ক কাজী হান্নান খাদেমকে চেক ও কাজ বুঝিয়ে না দিয়ে নিজেই জাল স্বাক্ষর দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন। এবং টাকা উত্তোলনের বিষয়টি সম্পূর্ণ চেপে রাখেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাজার কমিটির সম্পাদক রুহুল আমিন খাদেম জাল স্বাক্ষর দিয়ে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন কাজ করার জন্যই টাকা উত্তোলন করেছি।

কমিটির সদস্য কাজী হান্নান খাদেম বলেন, মাজার পুকুরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পুকুরের বাউন্ডারীর উপর এসএস পাইপের মাধ্যমে জিআই তারের জালি ফিটিং কাজ বাস্তবায়কনের জন্য আমাকে আহবায়ক করা হয়। কিন্তু মাজার কমিটির সম্পাদক রুহুল আমিন খাদেম আমার নামে ইস্যুকৃত ওই কাজের টাকার চেক না দিয়ে নিজেই স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করেন।

এ ব্যাপারে মাজার কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, আরেকজনের নামের চেকের টাকা উত্তোলন করে সম্পাদক ঠিক করেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

মাজার কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন খাদেম বলেন, কমিটির সম্পাদক রুহুল আমিন খাদেম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বাজেটের অতিরিক্ত খরচ করেন। মাজারের বিক্রিযোগ্য সম্পদ বিক্রি না করে যাকে তাকে দিয়ে দেন।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/৩০-০৮-২০১৭ইং/ অর্থ