মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

রাজশাহী থেকে ভোগান্তিতে কর্মস্থলে ফেরা শুরু

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৪ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহী প্রতিনিধি ।। ঈদের ছুটি শেষ। এবার কর্মস্থলে ফেরা। ঈদের আগের মতো বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশনগুলোতে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ফেলে আসা আপনজনের মধুর স্মৃতি সব কিছুকে পেছনে ঠেলে সবাই এখন কর্মস্থলমুখী। জীবনের তাগিদে শেকড়ের টানে ছেদ ঘটিয়ে ছুটছে মানুষ। পিচঢালা পথ আর কংক্রিটের দেয়ালে ঘেরা শহরে ফিরছেন মানুষ।

রাজশাহীতে মানুষের কর্মস্থলে ফেরার তাড়া শুরু হয়েছে। সেই সাথে টিকিট নিয়ে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে এখানে। ঈদের আগে ও পরে অনেকেই অগ্রিম টিকিটি কিনে রেখেছিলেন। কিন্তু যেসব যাত্রী অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

রাজশাহীর বাস কাউন্টারগুলোতে কোনো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। এসি বা নন-এসি কোনো টিকিটই নেই। তবে অনেকটা বাধ্য হয়ে সাধারণ যাত্রীরা ছুটছেন লোকাল বাসে বা বাসের ছাদে চড়েই। এক ধরনের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফেরার তাড়া তাদের ব্যতিব্যস্ত রেখেছে।

আর সেই সুযোগে লোকাল বাসগুলোর মালিকেরাও হাতিয়ে নিচ্ছেন অতিরিক্ত অর্থ। আগে যেখানে ছাদে একজন লোকের কাছ থেকে নেয়া হতো ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এখন সেখানে আদায় করা হচ্ছে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আর বাসের ভেতরের টিকিটের জন্য আদায় করা হচ্ছে ৫৫০-৬৫০ টাকা।

এই সুযোগে কালোবাজারিরাও তৎপর হয়ে উঠেছে। অসহায় যাত্রীদের কাছে প্রায় দ্বিগুণ দামে টিকিট বিক্রি করতে দেখা গেছে বিলাসবহুল বাসগুলোর।

সোমবার রাজশাহী স্টেশনে অবস্থান করে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল। সময় যতো গড়াচ্ছে ততোই যেনো বাড়ছে। বাস টার্মিনাল এলাকাগুলোতেও একই অবস্থা।

ঢাকা বাস টার্মিনালে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার শান্তনা বেগম। তিনি ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করছেন। শান্তনা বেগম বলেন, মঙ্গলবার সকালে তাকে অফিসে যোগ দিতে হবে। সে কারণে বাসের অপেক্ষায় বসে আছি। কোথাও টিকিট নেই। বাসের ছাদেও জায়গা নেই।

আরেক গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মকবুল হোসেন। ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে নাড়ির টানে এসেছিলেন গ্রামে। কিন্তু ফেরার বেলায় সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো টিকিট না পেয়ে অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। মঙ্গলবারের মধ্যেই তার ঢাকায় ফেরার কথা।

রাজশাহীতে ঈদ করতে এসেছিলেন কেশরহাট পৌরসভার মামুন ইসলাম। ঢাকায় এক প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছেন তিনি, মঙ্গলবার তার কর্মস্থলে যোগ দেয়ার কথা। কিন্তু রাজশাহীর শিরোইল বাস কাউন্টারে এসে দেখেন কোনো টিকিট নেই। কয়েকদিন ধরেই এই টিকিটের জন্য হন্নে হয়ে ঘুরছিলেন তিনি। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত টিকিটের দেখা পাননি। অগত্যা বেলা ১টায় লোকাল একটি বাসের ছাদে চড়ে ৩০০ টাকা দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন জনি। তার মতো আরো অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে চড়ে কর্মস্থলে ফিরছেন।

সরেজমিন ঘুরে আরো দেখা যায়, নগরীর শিরোইল বাস কাউন্টারের সামনে অর্থাৎ রাজশাহী রেলস্টেশনের  পাশে রাস্তার ওপর ২০ থেকে ২২টি লোকাল বাসের দীর্ঘ লাইন। একের পর একটি ছেড়ে যাচ্ছে ঢাকার উদ্দেশে। তবে জীবনের ঝুঁকি সত্ত্বেও এসব বাসের ছাদের ওপরে তোলা হচ্ছে যাত্রী। বাড়তি লাভের আশায় বাসের ভেতরে ও ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ছাড়ছে এসব লোকাল বাস। কালোবাজারির টিকিটগুলোও বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। কিছু বিলাসবহুল বাসের টিকিটও কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সন্জয়। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। রোববারই শেষ হয়েছে ছুটি। তাই সোমবাব তাকে ফিরতে হচ্ছে আপনজন ছেড়ে কংক্রিটের শহরে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী এসেছিলেন ট্রেনে যাবেন বলে। কিন্তু অসম্ভব ভিড়। তাই বাড়তি পয়সা খরচ করে এবার বাসে টিকিট কেটে তাকে ফিরতে হচ্ছে ঢাকায়। রেলপথে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভোগান্তিও চরমে। নির্ধারিত দিনে কর্মস্থলে ফেরার কথা থাকলেও টিকিট না পেয়ে অনেকেই হতাশ।