পত্নীতলায় চকফরদি মাদ্রাসার উদ্যোগে তালগাছ রোপন
আর আই সবুজ, পত্নীতলা (নওগাঁ ) প্রতিনিধি ।। নওগাঁর পত্নীতলা গ্রামের পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় চোখে পড়বে- আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি তালগাছ, গাছে গাছে ধরে থাকা তাল, পাতার সঙ্গে লেপ্টে থাকা বাতাসে দোল খাওয়া বাবুই পাখির কারুকাজ করা বাসার সঙ্গে তাদের মিষ্টি মধুর কলতান। শুধু সৌন্দর্যের দিক দিয়ে নয়, তালগাছ আমাদের অনেক উপকারে আসে। এ গাছের শক্ত কাঠ যেমন নানা কাজে লাগে তেমনি রয়েছে ঔষধি গুণও। তাল ভারতীয় উপমহাদেশীয় অনেক অঞ্চলেরই জনপ্রিয় গাছ, কারণ এর প্রায় সব অঙ্গ থেকেই কিছু না কিছু কাজের জিনিস তৈরি হয়, প্রায় কিছুই ফেলা যায় না।
তাল ফল ও তালগাছের বহুবিধ ব্যবহার ও পুষ্টি গুণাগুণ বিবেচনায় দেশীয় ফলের মধ্যে তালের অবস্থান অনেক ওপরে। গুচ্ছমূলী বৃহৎ অশাখা বৃক্ষ তাল, গাছের গোড়ার দিক মোটা, উপরের অংশ তুলনামূলক চিকন, কাণ্ডের মাথায় বোঁটা ও পাতা গুচ্ছভাবে সাজানো থাকে ও বোঁটার দু’ধারে করাতের মতো দাঁত থাকে। কষ্ট সহিষ্ণু তালগাছ রোপণ করা খুবই সহজ। একটু মাটি খুঁড়ে আঁটি পুঁতে রাখলেই গাছ জন্ম। সড়ক, মহাসড়ক, বাঁধ, বেড়িবাঁধ, রেল লাইন, পুকুর পাড়, খালের পাড়, নদীর পাড়, জমির আইল, পতিত জমি ও বসত বাড়ির শেষ সীমানায় তালগাছ রোপণ উপযোগী স্থান। তালের পাতা দিয়ে হাত পাখা, মাদুর, টুপি, ঘরের ছাউনি, চাটাই, ছাতা, লাকড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গাছের আঁশ থেকে বিভিন্ন রকমের সৌখিন সামগ্রী তৈরি হয় যেমন, টুপি, ঝুড়ি, ব্রাশ পাপোশ, ছোট বাস্কেট ও মাছ ধরার চাইয়ে। পুরুষ গাছের ফুল বা জটা হতে রস সংগ্রহ করে তা দিয়ে গুড়, পাটালি, পিঠা, বড়া, লুচি, পায়েস ইত্যাদি তৈরি করা হয়। কচি ও কাঁচা তালের নরম শাঁস মুখরোচক পুষ্টিকর। তাল কাঠের গোড়ার অংশ দিয়ে ডিঙি নৌকা তৈরি, ঘরের খুঁটি, আড়া, রুয়া, বাটাম, কৃষকের লাঙলের ঈষ ইত্যাদি তৈরি করা হয়। গাছ শক্ত মজবুত গভীরমূলী বলে ঝড় তুফান, টর্নেডো, বাতাস প্রতিরোধ এবং মাটি ক্ষয় রোধে তাল গাছের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে তালগাছের জুড়ি নাই। বর্জ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রচুর তালগাছের প্রয়োজন।
সে বিবেচনায় পত্নীতলা উপজেলার চকফরিদ মেহেরুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মন্ডলি এবং ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ চকসহবত বটতলার মোড় থেকে মহদিপুর রাস্তার প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় ১০০০ এর বেশি তালগাছের আটি রোপন করেছে। ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার চকফরিদ মাদ্রাসা ইউনিটের সমন্বয়কারী আয়শা খাতুন ও মিতুর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে তালের আটি মাদ্রাসায় জমা করে। রাস্তার ধারে তালের আটি রোপন উপলক্ষে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল ওদুদের নেতৃত্বে সকল শিক্ষকমন্ডলি, মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু রায়হান শেখ লিটন, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের এলাকা সমন্বয়কারী আসির উদ্দীন, ইউনিয়ন সমন্বয়কারী হারুনুর রশিদ, সাংবাদিক গোলাপ খন্দকারপ্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষকমন্ডলি এবং অতিথিবৃন্দ তালের আটি রোপন কাজে অংশগ্রহণ করেন। এসময় মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানির বিখ্যাত টুপি এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের –তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সবগাছ ছাড়িয়ে- উকিঁ মারে আকাশে, কথাগুলো সবার মুখে শ্লোগানে পরিণত হয়।