বগুড়ায় একাধিক হত্যা মামলায় আলোচিত মতিন কারাগারে
জেলা প্রতিবেদক : বগুড়ায় কিশোরী ধর্ষণ ও তার মাকে শারীরিক নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান নায়ক শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকারের বড় ভাই যুবলীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত আব্দুল মতিন সরকারকে (৩৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার দুপরে বগুড়া প্রথম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে মতিন জামিনের আবেদন করলে বিচারক মোহা. ইমদাদুল হক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একাধিক হত্যা মামলার আসামি হয়েও দীর্ঘ ৮ বছর ধরে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেন আব্দুর মতিন সরকার। পুলিশের খাতায় ২০০৯ সাল থেকে তিনি পলাতক আসামি।
বগুড়া প্রথম জেলা দায়রা জজ আদালতের পেশকার তোফায়েল আহমেদ জানান, একাধিক হত্যা মামলার আসামি ও দীর্ঘদিন পলাতক আব্দুল মতিন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সদ্য যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত মতিনের নামে ৩ থেকে ৪টি হত্যা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দিকে শহরের নুরানী মোড় এলাকায় রসুল, ২০০১ সালে চকসূত্রাপুরে আবু নাসের উজ্জ্বল, ২০১১ সালে মাটিডালি বাণিজ্য মেলায় শফিক চৌধুরী ও ২০১৫ সালে চকসূত্রাপুরে এমরান হত্যা।
এছাড়া ২০১২ সালে র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার করে। উজ্জ্বল হত্যা মামলা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং এমরান হত্যা মামলা দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ মতিনকে গ্রেফতার করলেও কয়েক দিন পর জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসের তিনি। এর মধ্যে উজ্জ্বল হত্যা মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় পলাতক আসামি হিসেবে গত ২০১২ সালের ২৫ জুন তার পক্ষে অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিনকে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়। গত ৫ বছর তিনি সরকারি খরচে মতিনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন। কয়েক বছর পর চলতি বছরের ৯ আগস্ট হত্যা মামলার আসামি মতিনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে আদালত।