স্ত্রীকে হত্যা, ঘাতক স্বামীর ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ
জেলা প্রতিবেদক : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শিববাটির জয়দেবপুরপাড়া গ্রামে ফেরদৌসি বেগম (২২) নামের এক গৃহবধুকে হত্যাকারি স্বামী আল আমিনের ফাঁসির দাবীতে বুধবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গ্রামের হাজারো নারী-পুরুষ। মৃত্যুর ৬দিন পর দাফন করা হয়েছে স্বামীর নির্যাতনে নিহত এক সন্তানের মা ফেরদৌসি বেগমকে।
নিহত গৃহবধুর পরিবারের অভিযোগ, গত ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার স্ত্রী ফেরদৌসিকে হত্যার পর বাড়ির পাশের মুরগী সেডে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তার স্বামীর পরিবার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ রহস্যজনক মনে হওয়ায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া মর্গে পাঠায়। নিরীহ গৃহবধু ফেরদৌসিকে হত্যা ও প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠে ওই গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ। তারা ঘাতক আল আমিনের খামারের মুরগী ও খামারের দুটি ফ্যান লুট করে।
বুধবার বেলা ১১টায় নামাজে জানাজা পুর্বে শিববাটি বাজারে সমবেত হয় হাজারো বিক্ষুদ্ধ নারী-পুরুষ। তারা বিক্ষোভ মিছিল করে। ওই কর্মসুচি থেকে পরকীয়ায় আশক্ত খুনি স্বামী আল আমিনের ফাঁসি দাবী করা হয়েছে।
জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের তিলোচ সিতাহার পাড়ার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী বিদ্যুত আলী খানের মেয়ে ফেরদৌসি বেগমের ৬ বছর পূর্বে একই এলাকার জয়দেবপুর পাড়ার জামাল উদ্দিন আকন্দের ছেলে আল আমিনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর ফেরদৌসি জানতে পারে স্বামী আল আমিন পরকীয়ায় আসক্ত। স্বামীর সেই পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় তাদের বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এর ৫ মাস পর সমঝোতার মাধ্যমে ফের ফেরদৌসি বেগমকে বিয়ে করে আল আমিন। এ অবস্থায় গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে ফেরদৌসি বেগমের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে নিহতের চাচা শেরেকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানায়, স্বামীর পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় প্রায়ই তার ভাতিজীকে শারিরীক নির্যাতন করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় তার ভাতিজীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন।
আদমদীঘি থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) শওকত কবির বলেন, গৃহবধূ ফেরদৌসির মৃত্যুটি রহস্যজনক হওয়ায় তার লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ওই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল কর্মসুচি পালনের খবরও তাঁকে কেউ জানায়নি।