মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

কিস্তি তুইলা রিক্সা কিনছিনু : বগুড়ায় কেঁদে উঠলো রিক্সা চালক

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৮৯ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

জেলা প্রতিবেদক : আমাগো পেটে লাথি মারেন, আল্লাহ সইবে না। গরীবের উপর জুলুম বন্ধ করেন। কারখানা-শোরুম বন্ধ করতে পারবেন না বইলা আমাগো পেটে লাথি মারলেন। বৃদ্ধ রিক্সা চালক কথায় কথায় কেঁদে উঠছিল।

বগুড়ার প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং পৌরসভা যৌথভাবে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ভেঙে ফেলার অভিযান চালায়। অভিযানের প্রথম দিনে ১৭টি ব্যাটারিচালিত রিক্সা আটক করে পৌরকর্তৃপক্ষ তা ধ্বংস করে। রিক্সা আটকের পর অনেক চালক কেদেঁ ফেলেন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বুধবার দুপুরে আটককৃত অটোরিক্সা ধ্বংস করার সময় এক বৃদ্ধ চালক কেঁদে উঠলেন। কথায় কথায় কেঁদে উঠে ওই চালক বলছিলেন, কিস্তি তুইলা একখান রিক্সা কিনছিনু। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাইছিনু। এটা রিসকা ছিল না, আমার ছোল আছিল। আমার ছোলডারে শেষ করে দিল। একন কি করে খামু, কিস্তি শোধ করমু কি দিয়া। ও আল্লাহ তুমি চুপ কেন, একেমন বিচার। বৃদ্ধ এই রিক্সা চালকের কথায় কেঁদে উঠলো অনেকের হৃদয়।

বৃদ্ধ রিক্সা চালক জানান- তিনি অনেক আশা করে এনজিও থেকে ঋন নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা কিনেছিল ৫০ হাজার টাকায়। রিক্সার নাম্বার করার জন্য তুফান সরকারকে দিতে হয়েছিল ৩ হাজার টাকা। আশা ছিল, ঋন পরিশোধ করে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বল্প আয়ে তিনি সুখে বসবাস করবেন। কিন্ত বিধিবাম। তছনছ হয়ে গেল এই বৃদ্ধের স্বপ্ন।
বগুড়া শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথায় বিপুল পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলী মুন রাজীব, বগুড়া পৌরসভার মেয়র এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল মন্ডল সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া সদর ট্রাফিকের পরিদর্শক বিকর্ন কুমার চৌধুরী জানান- বগুড়া আরটিসি’র (আ লিক পরিবহন কমিটি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজিসহ সকল প্রকার অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলছে। যারা অবৈধ যানবাহন তৈরি ও বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালান হবে।

এদিকে- বগুড়া জেলা সিএনজি-ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি ও বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বাপ্পী বলেন- এভাবে রাস্তায় চলাচলরত চার্জার রিক্সা আটক করে গুড়িয়ে দিলেই এটা বন্ধ হবেনা। এটা বন্ধ করতে হলে রিক্সা বিক্রির শোরুম এবং এর উৎপাদনের কারখানা আগে বন্ধ করতে হবে। অসহায় মানুষগুলোর শেষ সম্বল দিয়ে কেনা রিক্সা গুলি এভাবে নষ্ট না করে- বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে এর ব্যাটারি খুলে নিয়ে রিক্সা গুলো ফেরৎ দেওয়া যেতে পারে। এতে করে কিছুটা হলেও এই মানুষগুলো বাঁচতো। এভাবে চলতে থাকলে ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৪-১০-২০১৭ইং/ অর্থ