গাইবান্ধায় সদর হাসপাতালের সেবার পরিবেশ পরিবর্তন প্রকল্পে বেইজলাইন জরিপের উপর প্রতিবেদন প্রকাশ
মোঃ মেহেদী হাসান, গাইবান্ধা ।। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র সহযোগিতায় এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) গাইবান্ধা’র উদ্যোগে গত ০৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল,গাইবান্ধায় ডক্টরস লাউঞ্জ এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অমল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে হাসপাতালে সেবার পরিবেশ পদ্ধতির পরিবর্তন (হাসেপ) প্রকল্পে বেইজলাইন জরিপের উপর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সভার সঞ্চালক সনাক সদস্য ও স্বাস্থ্য উপ-কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সভা শুরু করেন। শুরুতেই তিনি সংক্ষিপ্তভাবে প্রতিবেদন প্রকাশেরর উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন। হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করেন তত্বাবধায়ক।
মূল আলোচ্যসূচি সমূহ ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপনার মাধ্যমে মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন সনাকের সভাপতি অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম।
গাইবান্ধা সনাকের ইয়েস গ্রুপের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হাসেপ প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ফলাফল এবং জরিপের প্রতিবেদনের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন গাইবান্ধা সনাকের ইয়েস গ্রুপের দলনেতা মোঃ রায়হান মিয়া এবং ইয়েস সদস্য মোঃ মারুফুল হক। হাসপাতালে হাসেপ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার নিয়োগ করা, দালালদের প্রভাব কমানো, ডাক্তারদের সঠিক সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত হওয়া, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারকে আরও কার্যকর করা, তথ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রে চালু রাখা এবং সেখানে লোক নিয়োগ করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি, এমআরদের সাক্ষাৎ এর সময়সূচি, নারী-পুরুষের আলাদা কাউন্টার (টিকেট ও ঔষধ), বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার প্রভৃতি বিষয়গুলো বেইজলাইন জরিপে উঠে আসে। উল্লেখযোগ্য লিখিত নির্দেশনাসমূহ দৃশ্যমান করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন সনাক সভাপতি অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম।
উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. মোঃ শাহিনুল ইসলাম মন্ডল, আরএমওসহ, হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, সনাকের প্রাক্তন সভাপতি গোবিন্দ লাল দাস, সনাক সহ-সভাপতি আফরোজা লুপুসহ সনাকের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, টিআইবি’র কর্মকর্তা, হাসপাতালের স্টাফ নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইয়েস গ্রুপের সদস্যবৃন্দ।
ডা. অমল চন্দ্র সাহা সভাকে অবহিত করেন যে, হাসপাতালে সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ডাক্তারদের নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ডাক্তারের সংখ্যা আগামীতে বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে সনাক এই হাসপাতালে কাজ শুরু করেছিল, আমি মনে করি, তাদের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। আমি সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি করতে চাই। হাসপাতালে আপডেট ঔষধ এর তালিকা নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়েছে এবং আউটডোর ও ইনডোর রোগীদের সরকারি নিয়ম অনুসারে ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ডাক্তার ও নার্সদের ডিউটি রোস্টার জরুরী বিভাগে দৃশ্যমান করা হবে। অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম উল্লেখ করেন খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর লিফলেট তৈরী করে সেবাগ্রহীতাদের মাঝে প্রচার করা হবে। তিনি হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, আগত সেবাগ্রহীতাদের ভালো সেবা প্রদান করার জন্য তত্বাবধায়ক মহোদয়কে সনাকের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়। এছাড়া ইয়েস সদস্যদের দ্বারা বাস্তবায়িত হাসেপ প্রকল্পের কাজে সহায়তা করার জন্য আশ্বাস প্রদান করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।