ভালুকায় অবৈধ করাতকলে উজার হচ্ছে বন
মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ।। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা অসংখ্য অবৈধ করাতকলে সরকারী বন হতে বনদস্যূরা চুরি করা শাল, গজারী, আকাশমনি ও বিভিন্ন বনজ গাছ চেড়াই করে বন উজার করায় কাদিগড় জাতীয় উদ্যানসহ সরকারী বাগানগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। এতে যেমন নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ তেমনি বনবিভাগের স্থানীয় গার্ড-ফরেষ্টারদের যোগসাজশে এক শ্রেণীর বনদস্যূর দল কাঠ বিক্রির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বনের ক্ষতিসাধন করছে। বন এলাকায় যেখানে সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য লাইসেন্স বিহীন করাতকল।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভালুকা, ধামশুর, কাঠালী, মেহেরাবাড়ী, বাশিল, মল্লিকবাড়ী, আঙ্গারগাড়া, হবিরবাড়ী, কাচিনা, বাটাজোর, তামাট, ডাকাতিয়া, পানিভান্ডা, নারাঙ্গী, চামিয়াদী, মেনজেনা, রান্দিয়া এলাকায় সরকারী গেজেটভুক্ত বনভূমি রয়েছে যেখানে শাল গাজারীসহ বিভিন্ন বনজ গাছ বেষ্টিত চালা বিদ্যমান। আবার অনেক জায়গায় অংশীদারীত্ব বনায়ন রয়েছে। ভালুকা উপজেলাকে ২টি রেঞ্জ ও ৪টি বিটে ভাগ করে বনবিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হয় ।
গত ২০১২ সাল থেকে কাদিগড় বনবিভাগের বিশাল গজারী বন বেষ্টিত এলাকা পালগাঁও ও কাদিগড় মৌজাকে জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষনা করে সরকার। জাতীয় উদ্যানে কিছু বিলুপ্ত প্রজাতীর বন্য প্রাণীও ছাড়া হয়েছে। বন এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও বাটাজোর বাজারে কয়েকটি করাত কলে দিন রাত গজারী গাছ চেড়াই করা হচ্ছে। বাটাজোর বাজার হতে জাতীয় উদ্যান মাত্র ২ কিলোমিটার দূরত্ব হওয়া সত্বেও উদ্যানের আশেপাশে প্রায় ১০/১৫টি করাতকল লাইসেন্স বিহীন চালাচ্ছে বরুদস্যূরা।
অপরদিকে উদ্যান হতে মাত্র ৪কিলোমিটার দূরত্বে মল্লিকবাড়ী বাজারে তিনটি করাতকল অবৈধভাবে চালাচ্ছে। পানিভান্ডা গ্রামের মৃত ইছব আলী সরকারের ছেলে শামসু মিয়া প্রথমে ১টি করাতকল করে বর্তমানে তিনটি অবৈধ করাতকলের মালিক। ১টি মল্লিকবাড়ী বাজারে, ১টি পানিভান্ডা ও ১টি নিঝুরী এলাকায় যা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চালাচ্ছে। অপরদিকে আংগারগাড়া বন এলাকায় ৬টি, উথুরা বন এলাকায় প্রায় ১০টি সহ ভালুকার কানাচকানাচে অসংখ্য লাইসেন্সবিহীন করাতকল রয়েছে। এসব করাতকলে দিন রাত বনা ল হতে আনা কাঠ চেড়াইয়ের ফলে ভালুকার বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বনবিভাগের কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দিতে রাজী হয়নি।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল জানান, আমরা এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছি । অচিরেই এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।