সিরাজগঞ্জে মেলার নামে চলছে জুয়াবাজি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ।। সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জে হেমন্ত মেলার নামে রীতিমতো চলছে জুয়া, অশ্লীল নৃত্য ও অসামাজিক কার্যকলাপ। জেলা প্রশাসন বা জেলা পুলিশের কোনো অনুমতি ছাড়াই চলছে এ মেলা।
তবে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, হাইকোর্টের একটি অনুমোদনপত্র এনেই মেলা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইকোর্টকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এ অনুমোদনপত্র এনে স্থানীয়দের নিঃস্ব করতে এ মেলার আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ। মেলার কারণে তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয়; মেলার কারণে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়ে চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে আইন-শৃঙ্খলার আরো অবনতি হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনভর মেলা প্রাঙ্গণ ফাঁকা থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত থাকে জমজমাট চিত্র। মাদক থেকে শুরু করে মেলায় রয়েছে ওয়ান টেন, হাউজিসহ অন্তত ২০টি ছোট-বড় জুয়ার বোর্ড। সেখানে রাত হলেই ভিড় বাড়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের। আছে র্যাফল ড্রর নামে লটারি। যার টিকিট বিক্রি করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত ২০০ মাইক জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়ায়। যদিও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ টাকার বেশি দরে টিকিট বিক্রি নিষিদ্ধ, তার পরেও এই মেলায় র্যাফল ড্রর টিকিট বিক্রি করা হয় ২০ টাকা করে।
সাহেবগঞ্জের শাওন জানান, পরীক্ষার সময় মাইকের শব্দে শিক্ষার্থীদের খুব অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই যেন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
একই গ্রামের আশরাফ জানান, মেলা শুরুর পর থেকেই জুয়ার নেশায় অনেকে চুরি-ছিনতাইয়ে নেমে পড়েছে। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষগুলো প্রতিনিয়ত বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ বাড়ির বাজার না করে মেলায় গিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে।
মেলার মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সব চালানো হচ্ছে। মেলায় ইনডোর গেমস আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই শুধু চলছে। ’ তবে ইনডোর গেমস বলতে ঘরের মধ্যে জুয়াকে বোঝায় কি না আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বলতে অশ্লীল আর উদোম নৃত্যকে বোঝায় কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম রাখাল বলেন, ‘জেলার কোথাও কোনো মেলার অনুমোদন নেই। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি হাইকোর্টকে হয়তো ভুল বুঝিয়ে একটি অনুমতিপত্র নিয়ে এসে এই মেলা চালাচ্ছে।