উল্লাপাড়ায় স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী
ছানোয়ার হোসেন, সিরাজগঞ্জ।। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভয় নেই। মানুষ আর জ্বালাও পোড়াওকে সমর্থন করে না মন্তব্য করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ডিসেম্বর হলো বিজয়ের মাস, গৌরবের মাস, ১৪ ডিসেম্বর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়। বাঙালী জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার এক বক্তব্যেই নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যেদিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্য্য। বঙ্গবন্ধু শোষণ, দারিদ্রমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত সোনার বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেই লক্ষ্যে মানুষ আজ নিরাপদে, নির্ভিঘ্নে শান্তিতে দেশে ঘুমাতে পারে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে সাংসদ তানভীর ইমাম ও উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে “নারীর ক্ষমতায়ন ও বাল্য বিয়ে রোধ” শীর্ষক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি একথা বলেন।
ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও বাল্য বিবাহ রোধ মা-বোনদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাল্য বিবাহ সবাই এক সাথে রোধ না করলে আইন থাকলেও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কাজেই বাল্য বিবাহকে সবাই না বলুন। ১৮ বছর বয়সের নিচে যেন মেয়েদের বিবাহ না দেয়া হয় সে বিষয়ে নিজেরাই বোঝেন এবং অন্যদের বোঝান। বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে জন্য নিবন্ধণ সনদে বয়স যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। কেননা অনেক ভুয়া জন্য নিবন্ধন দিয়ে অনেক বাল্য বিবাহ হচ্ছে। সামাজিক অচেতনতার কারণে দেশের কিছু কিছু জনগোষ্ঠী তাদের কন্যা সন্তানদের আঠারো বছরের কম বয়সে বিয়ে দিয়ে অকালে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাল্য বিবাহ রোধে অভিভাবকসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের রƒপকল্প বাস্তবায়নসহ সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে হলে কন্যা শিশুদের প্রতি আরো বেশি নজরদারি বাড়াতে হবে। কন্যা শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সমাজের, রাষ্ট্রের ও সকলের। তাই সকল কন্যা শিশুসহ নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও শিশু শ্রম বন্ধে সকলকে আন্তরিক হতে হবে। এ জন্য জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে সভা-সমাবেশ, সেমিনার ও উঠোন ˆবঠকের মাধ্যমে জনসাধারণকে গণসচেতনতা হিসেবে গড়ে তোলারও তাগিদ দেন।
স্পিকার আরও বলেন, একটি নারী শিক্ষিত হলে দেশ শিক্ষিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি সবাই যত্মশীল হবেন এবং কন্যা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, মাতৃমৃত্যু, শিশু মৃত্যু হার প্রতিরোধ করা, মায়েদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্মশীল হওয়া এবং বাল্য বিবাহ রোধ করতে পারলে এতে সুফল পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী মায়েদের বিভিন্ন ভাতা, দুস্থ মহিলাদের ভাগ্য উনśয়নের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ, কুঠির শিল্পসহ আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন। উল্লাপাড়ার জাতীয় সংসদ সদস্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উনśয়নসহ নানামুখী উনśয়নের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
২০২১ সালে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পৌছে যাবো উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২০২১ সাল ও ২০৪১ সালে এমডিসি, এলজিজি, বাস্তবায়ন করতে পারলে মানুষ সুখে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। যার ফলে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীর উনśয়ন, মাতৃমৃত্যুরোধ করতে পারলে উনśীত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবো। জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ দিবস ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করেছিলেন। এটা আর এখন স্বপś নয়। উল্লাপাড়ায় ১০টি শিশু রাসেল কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম ˆতরী করা হয়েছে। ইন্টারনেটের সুফল ঘরে ঘরে পৌছে গেছে। ইমেইল-ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রামের সুফল পেতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় উনśয়নের সুফল ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান।
উল্লাপাড়া আওয়ামীলীগের আহźায়ক মীর শহিদুল ইসলাম পুন্নুর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উল্লাপাড়া আসনের সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন এমপি, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সেলিনা বেগম স্বপ্ন জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা, জেলা পরিষদের সদস্য বিবলী ইসলাম কবিতা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হামিদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী প্রাপ্তি সাহা
এর আগে স্পীকার উল্লাপাড়ায় এসে পৌঁছিলে শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীবৃন্দ নেচে গেয়ে তাকে স্বাগত জানায়।