”এসডিজি অর্জনে দরিদ্র জনগোষ্ঠি ও সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিতেই হবে”
আর আই সবুজ, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ।। নওগাঁর পত্নীতলায় আলোহা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল গ্রাম গঠনের লক্ষ্যে সক্ষমতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ক্ষুধামুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও সম্মৃদ্ধ গ্রাম গড়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতি সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ কর্তৃক প্রশিক্ষিত দিবর ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম উন্নয়ন দলের ৪৪জন প্রতিনিধিদের নিয়ে ৩দিনব্যাপি আবাসিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ সমাপনিতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ’র আ লিক সমন্বয়কারি শশাঙ্ক বরণ রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পত্নীতলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে পত্নীতলা উপজেলা গণগবেষণা ফোরাম সভাপতি শাহিনুর রহমান, কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনপ্রমূখ। প্রশিক্ষণার্থী মো. ইসাহাক আলী অনূভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন ”অর্জিত জ্ঞানকাজে লাগিয়ে আমাদের গ্রামকে স্বনির্ভরশীল করে তুলবো। যথাযথ কৌশল অবলম্বন করে স্থানীয় সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবো।”
উপজেলা গণগবেষণা ফোরাম সভাপতি শাহিনুর রহমান বলেন ”আমরা পরিবর্তনের সংস্কৃতি নিয়ে পতœীতলায় ১৫২টি গণগবেষণা সংগঠন গড়ে তুলেছি। এনজিও এবং মহাজনী সুদের সংস্কৃতি থেকে আমরা প্রায় ৬ হাজার মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছি। সামনে আমাদেরই সুদিন অপেক্ষা করছে।”
প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ বলেন ”ইতোপূর্বে আমরা আপনাদের সংঠিত শক্তির প্রমাণ দেখেছি। আপনারা গত ৩দিনে যে দক্ষতা এবং কৌশল আয়ত্ব করেছেন তা পত্নীতলা উপজেলার শিক্ষা এবং সংস্কৃতি পরিবর্তনে অগ্রণী ভুমিকা রাখবে। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে আপনাদের প্রত্যেক পদক্ষেপের সাথে উপজেলা পরিষদ সব সময় আছে। আমাকে আপনাদের মানুষ মনে করে ডাকবেন, আমি পরিবর্তনের ইতিহাসের অংশ হতে চাই। নাগরিক অথিকার সুরক্ষায় দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগ এবং সহযোগিতা অব্যাহত থাকুক।”
সভাপতি শশাঙ্ক বরণ রায় বলেন ”ঐতিহাসিকভাবেই নওগাঁ অগ্রগামি অ ল। আমরা আমাদের গৌরব হারিয়ে ফেলেছি, তা পুনরুদ্ধারে আপনাদের প্রত্যেক পদক্ষেপ সাবধানে দিতে হবে। আপনারা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। আমরা আর হেরে যেতে চাই না। নিজেদের জয় করা এবং ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখাতে পাশে রয়েছি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং আমাদের সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে অগ্রণী ভ’মিকা রাখতে হবে।”
উল্লেখ্য দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পত্নীতলা উপজেলায় ৯৮টি গ্রাম উন্নয়ন দল গঠন করে স্থানীয় সমস্যার সমাধানে উদ্যোগি ভুমিকা রেখে চলেছে। গ্রাম উনন্নয়ন দলের সদস্যদের সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতার চেতনা এবং মানসিকতা পরিবর্তন করে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে উদ্যোগি করে তুলেছে। এখানে দৃষ্টান্তমূলক বেশকিছু সফলতাও দেখা দিয়েছে। বন্যার্তদের খাদ্য সহায়তা, রাস্তা সংস্কার, বৃক্ষরোপন, খাস পুকুর পুনরুদ্ধার, আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, কবরস্থান গড়ে তোলা, নিরাপদ পাণীয় জলের ব্যবস্থা, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধের মতো কাজ করে চলেছে।
