ছাতক সিমেন্ট কারখানায় স্মরণকালের ভয়াবহ জালিয়াতি, তোলপাড়
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।। ছাতকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত সিমেন্ট কারখানায় স্মরণকালের ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। একটি শক্তিশালি দূর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ভূঁয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এনিয়ে কারখানার অভ্যন্তরে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
জানা যায়, সম্পা এন্টারপ্রাইজ ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের পরিচালক ফকিরটিলা গ্রামের জনৈক রোবেল নামের একব্যক্তি ব্যাপক জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কারখানার ৯২লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সিমেন্ট উত্তোলনের ব্যাংক ক্রেডিট ভাউচার জাল করে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। ব্যাংকে এসব জাল ক্রেডিট ভাউচার দিয়ে সিমেন্ট উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৩ডিসেম্বর ছাতক পূবালী ব্যাংকের দেয়া মাসিক হিসাব বিবরনীতে বড় ধরণের গরমিলের ঘটনায় কারখানার হিসাব কর্মকর্তা রেজাউল করিম ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। একটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরিকালে গরমিলের ঘটনা ধরা পড়ে। এতে জাল ক্রেডিট ভাউচার দিয়ে কারখানার ৯২লাখ টাকার সিমেন্ট উত্তোলন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, সম্পা ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের নামে ৭টি ভাউচারে ৯২লাখ টাকা ছাতক পূবালী ব্যাংকে পেমেন্ট দেখানো হলেও এসব ছিল জাল ভাউচার। পরে কারখানা ও ব্যাংক হিসাবে ঘটনার ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত করা হয়।
এতে দেখা যায়, রূপালী ব্যাংক বংশাল শাখায় সম্পা ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের দেয়া ২কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টিও ভূঁয়াও তা- জালিয়াতির মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। শহরের ফকিরটিলা গ্রামের মৃত কালা মিয়ার পুত্র রোবেল মিয়া ছাড়াও এ ভয়াবহ জালিয়াতির সাথে জড়িত রয়েছে কারখানার নতুন বিএমআরই প্রজেক্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা। কেপিএম থেকে বদলীকৃত জনৈক কর্মকর্তা কারখানার লুঠপাটের মূলহোতা বলে জানা গেছে। সিমেন্ট কারখানার একটি তদন্ত টিম রূপালী ব্যাংক বংশাল শাখায় তদন্তে গেলে ওই কর্মকর্তার প্রভাবে তাদের কার্যক্রম ভেস্তে গেছে। এ ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় ছাতক সিমেন্ট কারখানার রোপওয়ের বিভাগীয় প্রধান মাহবুব এলাকে প্রধান করে ৪সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, নতুন প্রজেক্টের এ কর্মকর্তা কারখানার বড়ধরণের সবগুলো দূর্নীতির সাথে জড়িত এবং তার পক্ষে রোবেল মিয়া-ই এসব নিয়ন্ত্রণ করছে। ওই কর্মকর্তা বিনা টেন্ডারে ৩৫লাখ টাকায় পাওয়ার প্ল্যান্ট বিক্রির পাঁয়তারা করে। পরে এলাকাবাসির প্রতিবাদের মূখে টেন্ডার দিয়ে এটি আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। এছাড়া গত ৬মাস থেকে কারখানার নামে ভারত থেকে ১৮শ’ টাকা করে প্রতি মে.টন চুনাপাথর এনে খোলাবাজারে ৫হাজার টাকায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। ্ধসঢ়;এভাবে নতুন বিএমআরই প্রজেক্টের উত্তোলিত ২১কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১কোটি টাকার কাজ দেখিয়ে ২০কোটি টাকা লাপাত্তা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এব্যাপারে সিবিএ সেক্রেটারী আব্দুল কুদ্দুছ জানান, এধরণের একটি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়ের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে। ছাতক সিমেন্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নেপাল কৃষ্ণ হাওলাদার বিষয়টি নিয়ে কম্প্রোমাইজ চলছে বলে জানান।