মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

চলনবিলে অবাধে অতিথি পাখি শিকার

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৬ বার পঠিত ২ মিনিটের পাঠ

ছানোয়ার হোসেন, সিরাজগনঞ্জ ।। চলনবিলে শিকারিদের হাতে মারা পড়ছে নিজেদের আহার জোগাতে আসা ঝাঁকে ঝাঁকে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ অতিথি পাখি। এতে করে বিলের সৌন্দর্য ও জীব-বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। শিকারিরা পাখি শিকার করে প্রকাশ্যে হাটবাজারে বিক্রি করলেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তা দেখেও না দেখার ভাব করছেন। অথচ পাখি শিকার আইন থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আর যারা পাখি শিকার করছে, তাদের অধিকাংশের আইনটি সম্পর্কে ধারণা নেই। এছাড়া বিলপাড়ের মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে না ওঠার কারণেই শিকারিরা না জেনেই অবাধে পাখি শিকার করছে। চলনবিলের কলম ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হারুন-অর রশিদ জানান, এ মৌসুমে চলনবিলের জমিতে অল্প পানি থাকায় কিছু মাছও থাকে। আর এ মাছ খাওয়ার লোভে অতিথিসহ দেশীয় প্রজাতির পাখি বিলে ভিড় জমায়। এ সুযোগেই কিছু লোভি শিকারি বিভিন্ন ফাঁদ পেতে অতিথি পাখি শিকার করে। চলনবিলের বিভিন্ন মাঠ থেকে দেশীয় পাখিসহ বিভিন্ন অতিথি পাখি শিকার করে বিলের দুর্গম বাজার বিশেষ করে ডাহিয়া, বিয়াশ, বিজয়নগর, কলম এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি পাখির জোড়া ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। অনেকেই আবার হোটেলে বিক্রির জন্য, কেউ বা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে পাঠানোর জন্য অতিথি পাখিগুলো কিনছে। চলনবিলের সৌন্দর্যমণ্ডিত অতিথি পাখি অবাধে শিকারের কারণে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। তাছাড়া চলনবিলাঞ্চলে বেশ কিছু এয়ারগান রয়েছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে এয়ারগান দিয়ে দিন-রাতে পাখি শিকার করছে। বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) উপদেষ্টা ও চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন চলনবিলের পাখি শিকার বন্ধে কাজ করছে। কিন্তু চলনবিল ৩টি জেলার ৯টি উপজেলা নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ এলাকা হওয়ায় পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সবার সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার বলে জানান তিনি।