মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

বগুড়ায় বিদ্যুতের খুঁটির তারে প্রাণহানির শঙ্কা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৭৮ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া ।। ত্রুটিপূর্ণ ও এলোমেলো অবস্থায় ঝুঁলে থাকা প্রায় ২ শতাধিক বিদ্যৎ সংযোগের তারগুলো দীর্ঘদিন ধরে মারাত্নকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় প্রাণহানির শঙ্কা করছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শেরুয়ার স্থানীয় লোকজন।

উপজেলার শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া দহপাড়া এলাকায় বিদ্যৎ সংযোগের তারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোন সময় প্রাণহানির আশঙ্কা ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব বছির উদ্দিন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেরপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়েছি। মারাত্মকভাবে ঝুঁলে রয়েছে বিদ্যুতের তারগুলো। এসব বিদ্যুতের তারের কারণে নিশ্চিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে। তাই অতিদ্রুত বিষয়টির সমাধান প্রয়োজন।

জানা গেছে, প্রতিটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগের তারগুলো বাঁশ ও গাছ ঘেঁষে ঝুঁলে রয়েছে। প্রায় বেশকিছু সংযোগ সরাসরি মাটির সাথে ঝুঁলে রয়েছে। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকা সত্বেও বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে আসেনি। এভাবেই বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের মাঝে। আর ওই স্থানটির পাশ দিয়ে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। দহপাড়া গ্রামে বিদ্যুতের পোল বা খুঁটি দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় আশপাশের মানুষ তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তার টেনে বিদ্যুতের সংযোগ নিয়েছেন। কিন্তু অ-নিরাপদভাবে এসব সংযোগ নেয়া হলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউই নেই।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে শেরুয়া দহপড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একদিক থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের খুঁটি শেরুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত, অপর প্রান্ত থেকে সংযোগের খুঁটি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের বাড়ী পর্যন্ত। ফলে শেরুয়া নামাপাড়া এলাকাটি পোল বা খুটি থেকে দূরে হওয়ায় স্থানীয় দুই শতাধিকেরও বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক বাঁশের খুঁটির সাহায্যে তার টেনে নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এসব বাঁশের খুঁটিগুলো হেলে গিয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, বাঁশ ঝাড় ও গাছের উপর পড়ে রয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ব্যবহার না করেই সংযোগ নিয়েছেন এমন গ্রাহকও রয়েছেন সেখানে। এসব সংযোগের অনেক তার ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলে রয়েছে এবং মাটিতে পরে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই স্থানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে নিশ্চিত প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কয়েকবার গ্রামের মানুষ বিদ্যুতের সংযোগের তারগুলো মেরামত করতে অফিসে ধর্না দিলেও কোন কাজ হয়নি। এছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও জানানো পর্যন্তই রয়েছে। বিদ্যুতের তারগুলো কৃষিজমি ও বাড়ি, গাছের ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নেয়া হয়েছে। প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে, দায় কে নেবে ? এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।

এপ্রসঙ্গে শেরপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, আমি কিছুদিন পূর্বে এই ষ্টেশনে যোগদান করেছি, তাই বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। জেনেছি যখন, তদন্তসাপেক্ষে তাড়াতাড়ি এই লাইনগুলো ঠিক করা হবে।