মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

নড়াইলে অবহেলিত অবস্থায় একুশে পদকপ্রাপ্ত বিজয় সরকারের বসতভিটা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬২ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ
কাজী আতিকুর রহমান, নড়াইল প্রতিনিধি ।। সংরক্ষণের অভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে একুশে পদকপ্রাপ্ত বিজয় সরকারের বসতভিটা। এখানে বিজয় স্মৃতিসংগ্রহশালা নির্মানের জন্য এলাকাবাসীর দাবি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কবির বাড়িতে একটি মঞ্চ করা হলেও তাতে ফাটল ধরেছে। বাড়িতে যাওয়ার প্রায় দুই কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তা এখনও পাকা হয়নি। কবির বাড়িতে বর্ষাকালসহ ৬মাস নৌকায় যেতে হয়। প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়েন দর্শনার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ডুমদি গ্রামে বিজয় সরকারের স্মরণে একটি ভবন ও বিজয় মঞ্চ নির্মিত হয়। কিন্তু এখানে কোনো তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ভবন ও বিজয় মঞ্চ। কবির বসতভিটায় কেউ না থাকায় খুবই এলোমেলো অবস্থায় ছিল। তবে গ্রামবাসিদের সহায়তায় গত এক মাস পূর্ব থেকে গোবিন্দ বিশ্বাস নামে এক বিজয় ভক্ত কবির বসতভিটা দেখাশোনা করছেন। কবির জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে স্থানীয়দের চেষ্টায় প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে পল্লি বিদ্যুৎ, টয়লেট ও টিউবওয়েলের কাজ চলছে। দু’এক দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
স্থানীয় মেম্বার, বিজয়ভক্ত টাবরা গ্রামের ভবরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল থাকায় দেশী-বিদেশী পর্যটকরা এখানে আসতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার রাস্তা পাকাকরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও তা পূরণ হয়নি। কবির সৃষ্টিকর্ম সারাবিশ্বে পৌঁছে দিতে এসব অবকাঠামো নির্মান প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
নড়াইল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুন্ডু বলেন, বিজয় সরকারের অসংখ্য গান ছড়িয়ে রয়েছে। এসব গান ও সুর সংগ্রহ করে স্বরলিপি আকারে বই প্রকাশ করা জরুরি। এছাড়া শিল্পীর জন্মভূমিতে বিজয় স্মৃতি সংগ্রহশালা নির্মানের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানান।
চারণকবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-আহবায়ক এসএম আকরাম শাহীদ চুন্নু বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বিজয় সরকারের অবদান রয়েছে। তিনি কবিগান গেয়ে যে টাকা উর্পাজন করতেন, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করতেন। তাই ‘কণ্ঠযোদ্ধা’ হিসেবে বিজয় সরকারকে ‘স্বাধীনতা পদক’ দেয়ার দাবি জানান। এছাড়া বিজয় সরকারের নামে নড়াইলে ফোকলোর ইন্সটিটিউট নির্মাণ এবং পাঠ্যপুস্তকে কবির রচনা ও জীবনী অন্তর্ভূক্তির দাবি জানান।
জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, বিজয় সরকারের বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণসহ তার স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এছাড়া তিনি বিজয় সরকারের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তাটিও পাকাকরণ এবং বিজয় মঞ্চ মেরামতের বিষয়ে আশ্বাস দেন।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুরস্রষ্টা গীতিকার, সুরকার ও গায়ক বিজয় সরকার বার্ধ্যকজনিত কারণে ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতের হাওড়ার বেলুডে পরলোকগমন করেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়। ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিজয় সরকার। তিনি ১৮০০ বেশি গান লিখেছেন। শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন বিজয় সরকার।