মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ১৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাহিত্য উৎসব উদযাপিত

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ১২৩ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

শাহাদাত হোসাইন সাদিক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ।। লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ১৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাহিত্য উৎসব উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গত ৬ এপ্রিল বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাহিত্য সংসদের সভাপতি ডা. মোঃ সালাহ্উদ্দিন শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক গাজী গিয়াস উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন ৮০ দশকের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্য সমালোচক ড. আবু হেনা আবদুল আউয়াল। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন লক্ষ্মীপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান। বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, বিএমএ জেলা সভাপতি ডা. আশফাকুর রহমান মামুন ও বিশিষ্ট কবি খাতুনে জান্নাত। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট কবি মুজতবা আল মামুন, জাতীয় রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম তপন, জেলা সাহিত্য সংসদের সিঃ সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মাহাবুবুল বাসার, প্রগতি লেখক সংঘ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুর রশিদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট কবি ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা আরাফাত বিন আবি তাহির, জাতীয় কবিতা পরিষদ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি কবি এস এম জাহাঙ্গীর ও প্রগতি লেখক সংঘ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লাকে জেলার বর্ষসেরা কবি ২০১৮ পুরস্কার এবং বিশিষ্ট লেখক গবেষক নাজিম উদ্দিন মাহমুদ কে বাংলা আওয়াজ লেখক সম্মাননা ২০১৮ প্রদান করা হয়। তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সাহিত্য কুইজ প্রতিযোগিতা, স্বরচিত কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান স ালনা করেন সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি মোশারেফ হোসেন চৌধুরী ও প্রভাষক নাহিদ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মাহবুবুল বাসার ও সাহিত্য সংসদের সাংস্কৃতিক ও পাঠ চক্র সম্পাদক ফাহমিদা মাহবুব রূপা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি ড. আবু হেনা আবদুল আউয়াল বলেন, নতুন প্রজন্মের কবিদের জাতীয় মানের উত্তরণের সাধনায় ব্যাপক পড়া শোনার মধ্য দিয়ে তাদের লেখনিকে সমৃদ্ধ করতে হবে। সাহিত্য এমন এক শিল্প যা ফুলের মতো নিজ প্রয়োজনে ফোটে। কবিতার ভাব সৌন্দর্য ও রহস্য থেকে পাঠক শিল্পরস আহরণ করেন। কবিতা হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। লেখক পাঠকের সাহিত্য আড্ডার মাধ্যমে সাহিত্য সমৃদ্ধি ঘটানোর জন্যে তিনি আহ্বান জানান।
উদ্বোধকের বক্তব্যে প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন, একটি জেলায় সাহিত্য সংসদের ১৯ বছর টিকে থাকা অবিস্মরণীয় বিষয়। তিনি বলেন সাহিত্য জীবন বোধকে জাগ্রত করে বলে আমরা রবীন্দ্র, নজরুল, শেক্সপিয়র ও গোর্কিদের কাছে ফিরে যাই। বিশ্বের সহস্রাব্দের সেরা মানুষ বিবেচিত হয় শেক্সপিয়র। রাজনীতিবিদদের সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এড. নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন সাহিত্য সংসদের সাংগঠনিক সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, জাতীয় পর্যায়ে স্থান করে নেওয়া কবিরা লক্ষ্মীপুরের গৌরব। তরুণ কবিরা আগামীদিনের জাতীয় ভাবে সুনাম বয়ে আনবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। কবি খাতুনে জান্নাত বলেন, কবি লেখকদের সামাজিক অবস্থান হতাশার জন্ম দেয়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের অধ্যয়ন বৃদ্ধি করতে হবে। কবি মুজতবা আল মামুন বলেন, কবিরা স্বাপ্নিক, স্রষ্টা ও গবেষক।