কেশবপুরে পৌর কাউন্সিলর জামালসহ ৮ জনের নামে আদালতে মামলা
শাহিনুর রহমান, যশোর : যশোরের কেশবপুর পৌরসভার কাউন্সিলর জামালউদ্দিনসহ ৮ জনকে আসামি করে চাঁদাবাজি ও খুন জখমের হুমকির অভিযোগে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। কেশবপুরের সাবদিয়া গ্রামের মৃত ছবেদ আলী গাজীর স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা রাশিদা খাতুন বাদী হয়ে আদালতে এ মামলা করেছেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন অভিযোগটি গ্রহণের পর স্বাক্ষী হাফিজুর রহমান ও ছামিউন নেছার স্বাক্ষ্য নিয়ে আদেশের জন্য ১৩ মে দিন ধার্য করেছেন। আসামিরা হলো কেশবপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবদিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিন ও তার ছেলে শাহিন হোসেন, জামালউদ্দিনের ভাগ্নে সবুজ হোসেন ওরফে বড় সবুজ, নাছিরউদ্দিনের ছেলে সবুজ হোসেন নিরব ওরফে ছোট সবুজ, আব্দুর রাজ্জাক ওরফে কসাই রাজ্জাক ও তার ছেলে হাসান আলী, রেজাউল দফতরির ছেলে নাজমুল ইসলাম ও সোহরাব হোসেন শেখের ছেলে সুমন হোসেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, রাশিদা খাতুন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। আসামিরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ। কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন সাবদিয়া গ্রামের মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ’র চাল পাইয়ে দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আত্মসাত করেছেন। এ ছাড়া বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার নামে চাঁদা এবং সাবদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার দুই শিক্ষক চাঁদা না দেয়ায় যোগদান করতে দেননি তিনি ও তার সহযোগীরা।
রাশিদা খাতুন অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কেশবপুরে তিনি একটি সংবাদ সম্মেলন করে কাউন্সিলর ও তার সহযোগীদের দুর্নীতির ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। সংবাদ সম্মেলন করায় কাউন্সিলর ও তার সহযোগীরা তার উপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয় এবং হত্যার হুমকি দেন। রাশিদা বেগম কেশবপুর পৌর এলাকায় একটি বাড়ির নকশা অনুমোদনের জন্য পৌরসভায় যান। এ সময় কাউন্সিলর ও তার সহযোগীরা ৫০ হাজার টাকা চাঁদ দাবি করে। টাকা না দিলে আবেদন জমা দিতে দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি কাউন্সিলরকে ২৫ হাজার টাকা দেন নকশার আবেদন জমা দেয়ার জন্য। এরপর বাড়ির কাজ শুরু করলে আসামিরা তার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা নিয়ে যায় আসামিরা। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।