রাবিতে কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১১
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পতাকা মিছিলের সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লাঠি, রড, হাতুরি ও ছুরি নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে একজন গুরুতর আহত হয়।
আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম তরিকুল ইসলাম তারেক। তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তাকে সাংবাদিকরা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে। তারেকের পায়ে ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। এছাড়াও আরও ৬ জন আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজার থেকে পতাকা মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকের দিকে এগোতে থাকে আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়।
আন্দোলনকারীদের পতাকা কেড়ে নিয়ে রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গোফরান গাজী, মিজানুর রহমান সিনহা, আহমেদ সজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান লাবন, মেহেদী হাসান মিশুসহ ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী লোহার রড, বাঁশের লাঠি, হাতুড়ি ও ছুরি দিয়ে হামলা করে। এসময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তারেক বেধড়ককে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তারিক ছাড়াও হামলায় আরও ৬জন আহত হয়। এসময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে ছিল বলে অভিযোগ করে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
কোটা সংস্কার রাবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলাম। তারা এসময় আমাদের ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের ৭জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে তারেক নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, কোটা আন্দোলনের নামে জামায়ত-শিবির ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল। তারা যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে এজন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছিলাম। তারা মিছিল নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করলে তাদের সঙ্গে আমাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু কথিত কোটা আন্দোলনকারীরা বিনোদপুর থেকে লাঠিসোঠা নিয়ে ছাত্রলীগদের ধাওয়া করতে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি।
এর আগে সোমবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় কমিটির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল পালনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি থাকলেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেয়ায় আন্দোলনকারীরা দাঁড়াতে পারেননি। এসময় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। তবে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
