বগুড়ায় নম্বর ক্লোনিং করে বিকাশ এজেন্টের সাথে প্রতারণা, টাকা গায়েব
ক্লোনিং করে বিকাশ অফিসের লেনদেন কর্মকর্তার নম্বর থেকে ফোন করে তথ্য নেয়ার পর এক বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়েছে প্রতারক চক্র। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরের পুরাতন বাজারের পার্বতী মেডিকেল ষ্টোরের পরিচালক ও বিকাশ এজেন্ট দিপঙ্কর সরকার কাজল প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী (নং- ৪৫১) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) নন্দীগ্রাম থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ১০ জুলাই দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বগুড়া বিকাশ অফিসের নন্দীগ্রাম এরিয়ার ডিএসও (লেনদেন কর্মকর্তা) নুর মোহাম্মদের ০১৭৯৭…..২১ নম্বর থেকে বিকাশ এজেন্ট দিপঙ্কর সরকার কাজলের ০১৮৬২…..৪৫ নম্বরে ফোন করে ওপার থেকে বলা হয়, ‘আমি নুর মোহাম্মদের বস বগুড়া অফিস থেকে বলছি, ‘আপনাকে ০১৯৯২২২৮৩০৭ নম্বর থেকে বিকাশ হেড অফিসের কর্মকর্তা ফোন করবে। ওই নাম্বার থেকে ফোন করে যা চাইবে, আপনি তাকে তথ্যগুলো দিবেন। এরপর ওই নম্বর থেকে বিকাশ এজেন্টের নম্বরে দুইবার কথা বলে লেনদেন সহ বিভিন্ন তথ্য নেয়। পরে (লেনদেন কর্মকর্তা) নুর মোহাম্মদের নম্বর থেকেও ফের তিনবার ফোন করে কথা বলে মোবাইল ও বিকাশ সংক্রান্ত তথ্য নেয়। ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবার পর বিকাশ এজেন্ট দিপঙ্কর সরকার কাজলের অজান্তেই ০১৮৬২…..৪৫ নম্বরের অ্যাকাউন্ট থেকে ০১৮৫৮৬৯১০৩৯ নম্বরে ১৪ হাজার ৯৯৮ টাকা চলে যায়।
প্রতারণার শিকার দিপঙ্কর কাজল বলেন, আমার বিকাশ এজেন্ট অ্যাকাউন্টে যা টাকা ছিল, সব আমার অজান্তেই লেনদেন হয়েছে। আমি বিষয়টি বিকাশ বগুড়া অফিস ও হেল্প লাইনে অবহিত করেছি। এঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি, যার নং- ৪৫১, তারিখ- ১০/০৭/১৮ইং।
জানতে চাইলে বগুড়া বিকাশ অফিসের নন্দীগ্রাম এরিয়ার ডিএসও নুর মোহাম্মদ মুঠোফোনে বলেন, এই ঘটনা নতুন নয়, দেশব্যাপী একই সমস্যা। এরআগে নন্দীগ্রামে অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আমি এজেন্টদের আগেই বলেছি, বিকাশ এজেন্ট নাম্বারে ফোন আসলে রিসিভই করবেন না। বিকাশের নতুন অফার বা বিকাশ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান থাকলে আমি সরাসরি এজেন্টের কাছে গিয়ে বলি। তিনি বলেন, প্রতারকরা বিশ্বাস অর্জনের জন্য আমার নম্বর ক্লোন করে বিকাশের এজেন্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছে। প্রতারণার বিষয়টি এজেন্ট কাজল লিখিতভাবে আমাদেরকে জানিয়েছেন।