মূল সংবাদে যান
১৮ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন

যৌনকর্মীদের টাকায় ভাগ বসাতেন টিএসআই রফিক!

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৯৩ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

jessor_sex_worker
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ শোরের সাবেক টিএসআই রফিকের বিরুদ্ধে যৌনকর্মীদের হয়রানি ও নির্যাতনের পাশাপাশি তাদের দেহ ব্যবসার টাকা ভাগ বসানোর অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি যৌন পল্লী থেকে এক কিশোরী উদ্ধারের ঘটনায় দুই যৌনকর্মীকে মামলায় ফাঁসিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

নিষিদ্ধ পল্লীর কর্মীদের ওপর টিএসআই রফিকের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে সোমবার যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন যৌনকর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, দেহ বিক্রির টাকায় ভাগ বসিয়েছেন কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তা। যশোরের সাবেক টিএসআই রফিকের টার্গেট ছিল মাসে কয়েক লাখ টাকা যৌন পল্লী থেকে হাতিয়ে নেয়া। টাকা দিতে একটু এদিক ওদিক হলেই যৌনকর্মীদের ওপর শুরু করতেন নির্যাতন।

পুলিশের ওই কর্মকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়েছে অনেকে। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি। সম্প্রতি তাকে কুষ্টিয়ায় বদলি করায় নির্যাতিত যৌনকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে তার কুকর্মের কাহিনী তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে যৌনকর্মী সোনিয়া জানান, যশোরের পতিতাপল্লীর নাইটগার্ড আবুল কাশেম ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তার নিজ ঘরে টিয়া নামের একটি মেয়েকে রেখে দেহ ব্যবসা করাতো।

জানতে পেরে মেয়েটির পরিবার র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দেয়। এরপর র‌্যাবের অভিযানে মেয়েটি উদ্ধার হয়। এরপর কাসেম, রাবেয়া, আঞ্জু, ডলি ও হিরার নামে মামলা হয়। এর বাইরে কাউকে আসামি করা হয়নি।

গত ২৯ অক্টোবর সদর ফাঁড়ির সাবেক টিএসআই রফিক হঠাৎ যশোরে এসে সোনিয়া ও স্বপ্নাকে ডেকে পাঠায়। তাদের কাছে রফিক তিন লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। না দিলে তাদেরকে ওই মামলায় ঝুলিয়ে দেয়ার হুমকি দেন।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দিয়ে সোনিয়া ও স্বপ্নাকে চার্জশিটভুক্ত করার ভয় দেখান। টিএসআই রফিক দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘তোদের কোনো বাপ থাকলে ঠেকাতে বলিস। আর মনে রাখিস ৩ লাখ টাকা না দিলে ওই কেস থেকে বাঁচতে পারবি না।’
উপস্থিত যৌনকর্মীরা জানান, সদর ফাঁড়ির টিএসআই দায়িত্বে থাকাকালে পতিতালয়ে কোনো নতুন মেয়ে আসলে রফিককে ২০-৫০ টাকা দিতে হতো। কিন্তু আগে ৫-১০ টাকায় রফা হতো।

যৌনকর্মীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ৫০হাজার টাকা উৎকোচ আদায় করেছেন টিএসআই। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে আমাদের ওপর শুরু হতো নির্যাতন।

সংবাদ সম্মেলনে টিএসআই রফিকের নির্যাতনের শিকার ১০-১২জন যৌনকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা রফিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে যশোর পুলিশের মুখপাত্র শাফিন মাহমুদ জানান, রফিকের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।