মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসককে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৫ বার পঠিত

narayanganj-map
নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রী উম্মে হাবিবার আত্মহত্যার ঘটনা খতিয়ে দেখতে নারায়ণঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। নির্দেশনা পাওয়ার আজ শনিবার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই ছাত্রীর বাসায় যান জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আক্তার চৌধুরী শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা ও ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী টেলিফোনে ঘটনা খতিয়ে দেখতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞাকে নির্দেশনা দেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আজ বিকেলে তিনি (ইউএনও) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন আরা বেগম ওই ছাত্রীর বাসায় যান। তবে লাশ নিয়ে পরিবার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী যাওয়ায় তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। পরে তাঁরা বাসার মালিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তাঁরা স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য নেন।

ইউএনও আফরোজা আক্তার বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য জেলা প্রশাসককে জানানো হবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, ওই স্কুলছাত্রীকে অপমাণ ও মারধর করার অভিযোগে স্কুলের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আরেক শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম এ কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, প্রকাশ্যে সবার সামনে ওই স্কুলছাত্রীকে ভৎসনা করা মোটেও ঠিক হয়নি। এ অভিযোগে শিক্ষক কামরুলকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আর শিক্ষক নাসরিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নেতারা। কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহানারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ ওঠা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের অবহেলা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক জানান, আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা করেছে। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, স্কুলছাত্রী উম্মে হাবিবা বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। বাবা মায়ের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক ভাড়া বাসায় থাকত সে। সে নারায়ণগঞ্জ সদরের গণবিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত বৃহস্পতিবার বাসা থেকে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পর বাসায় তার হাতে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়। ওই চিরকুট ও উম্মে হাবিবার পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার স্কুলে পরীক্ষা দিতে যায় উম্মে হাবিবা। পরীক্ষা চলাকালে নকল করার অভিযোগে শিক্ষক নাসরিন আক্তার তাকে ভৎসনা করেন। আরেক শিক্ষক কামরুল হাসান তাকে চড় থাপ্পড় মারেন। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এ অপমাণ সইতে না পেরে উম্মে হাবিবা বাসায় ফিরে আত্মহত্যা করে।