ছুটির ফাঁদে কক্সবাজারে পর্যটকের ভীড়

দীর্ঘকাল পর কক্সবাজার সৈকতে আবারো ছুটির ফাঁদে ঢল নেমেছে ভ্রমণ পিপাসু লোকজনের। লোকে-লোকারণ্য বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতটি। কোথাও যেন ঠাঁই নেই অবস্থা। আজ বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি হাজার হাজার লোক সৈকতের বালুচরে নেমে আসে। সৈকতের হিমছড়ি থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত অগনিত সংখ্যক পর্যটকের ভীড় পড়ে যায়। পরিবার-পরিজন ছাড়াও গাড়িতে গাড়িতে পিকনিক পার্টিও এসে জড়ো হচ্ছে সাগর পাড়ে।
আজ বুধবার বিজয় দিবসের ছুটি এবং বৃহস্পতিবার খোলার দিনকে অনেকেই ছুটি নিয়ে টানা ৪ দিনের অবসর কাটানোর সুযোগ করে কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন। একটানা ছুটির সুযোগে পর্যটকরা কক্সবাজার সৈকত ছাড়াও সেন্টমার্টিন্সকেই সবচেয়ে বেশী পছন্দের তালিকায় নিয়েছে। এ কারণে টেকনাফের সাথে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে চলাচলকারী ৫টি পর্যটক জাহাজে এই ৪ দিনের সব টিকেট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
পর্যটক জাহাজ এল,সি,টি কুতুবদিয়ার স্থানীয় ম্যানেজার মোহাম্মদ নাসির বলেন, মূলত আগামী থার্টিফার্ষ্ট নাইট পর্যন্ত আমাদের জাহাজে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ ভ্রমণের জন্য টিকেটের সংকট রয়েছে। এতদিন ভ্রমণ পিপাসু লোকজন বের হতে পারেননি নানা কারণে। ডিসেম্বরের এক মাসেই বিজয় দিবস, বড় দিনসহ নববর্ষের শুরুতে লোকজন বেড়াতে বেরুচ্ছেন, তাই অগ্রিম টিকে বিক্রি হয়ে যায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভাল থাকলে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত লোকজন পর্যটন ষ্পটগুলোতে বেড়াতে বের হবেন।
কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টের হোটেল কল্লোলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, গত তিন বছর যাবত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তাই এবার ব্যাপকভাবে ভ্রমণকারীরা আসতে শুরু করেছেন। আমাদের হোটেলে আাগামী মাসেও অগ্রিম রুম বুকিং নেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন জানান, গত দুই বছর বেড়াতে আসিনি তদুপরি এবার সন্তানদের পরীক্ষা শেষ করেই বিজয় দিবসের ছুটি কাজে লাগিয়ে দিলাম। চট্টগ্রামের বাওয়া হাই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুস সামাদ জানান, সত্যিই এ সমুদ্র সৈকত আল্লাহর বড় নিয়ামত। বালুচরে দাঁড়িয়ে ঢেউ অবলোকন করইে অনুভব করা যায় আমরা কেমন সুন্দর দেশের নাগরিক।