পাবনায় সাবেক বিএনপি নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা

পাবনার সদর ও আটঘরিয়া উপজেলার সীমানন্তবর্তী হায়দারপুর গ্রামে বিএনপির সাবেক নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মির্জা মকবুল হোসেন ওরফে দুলাল মাস্টারকে (৫২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। আজ রবিবার বিকেল তিনটার দিকে নিজ জমিতে কাজ করার সময় এই হামলার স্বীকার হন তিনি।
এসময় আরো দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানান, রবিবার দুপুরে মালঞ্চি ইউনিয়নের হায়দারপুর গ্রামে নিজ জমিতে ক্যানেল কাটছিলেন দুলাল মাস্টার। এসময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হঠাত্ তার উপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় হামলাকারীদের প্রতিহত করতে এগিয়ে এলে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আরজান সরদার (৬০) ও এসকেন শেখের ছেলে আহাম্মদ আলী (৩০) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সকরা দুলাল মাস্টারকে মৃত ঘোষণা করে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুলাল মাস্টার উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের পয়দা গ্রামের মৃত মির্জা আমজাদ হোসেনের ছেলে। তিনি পয়দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া তিনি গয়েশপুর ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক নেতা ছিলেন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার উপরে হামলা চালায়। তবে প্রতিপক্ষ কারা বা জমি নিয়ে কি ধরণের বিরোধ ছিল সে ব্যাপারে পরিবারের কেউ মুখ খোলেন নি কেউ।
তবে আহত আরজান সরদারের ছেলে আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর আগে হায়দারপুর গ্রামে আরজান সরদারের ভাইয়ের ছেলে রিপন খুন হন। ওই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গ্রামের চনু শেখ। এই চনু শেখের সাথে নিহত দুলাল মাস্টারে বিরোধ চলে আসছিল। আজ চনু শেখের নেতৃত্বেই দুলাল মাস্টারে উপর হামলা চালানো হয়।
এ ব্যাপরে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা জানান, নিহত দুলাল মাষ্টার জেলা বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবী জানান তিনি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হাসান জানান, দুলাল মাস্টারের মাথায় ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন রয়েছে। আজ সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ওই গ্রামের অপর একটি হত্যা মামলার আসামি ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে শোনা গেছে। ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।