মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

ফেনীতে জমি নিয়ে দুইপক্ষের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ শিশুর মৃত্যু

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬১ বার পঠিত

feni-baby-killed
ফেনী: ফেনীতে খালার কাছে থেকে পড়াশোনা করত মেধাবী ছাত্রী তৈয়বিয়া মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা আক্তার (১৫)। কিন্তু কে জানত মৃত্যুদূত অপেক্ষা করছে তারই জন্য। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ফেনী সদরের মহিপালের মধ্যম চাঁড়িপুরে জমি নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধের জের ধরে গোলাগুলির ঘটনায় ওইদিনই দুজন প্রাণ হারান।

এদিকে এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো তিনজন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেল গুলিবিদ্ধ শিশু মারুফও (৬)। গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

নিহত মারুফ চাড়িপুর এলাকার মোহাম্মদ সুমনের ছেলে। সে স্থানীয় ইস্ট-ওয়েস্ট কিন্ডারগার্টেন এর নার্সারির ছাত্র।

এ বিষয়ে মারুফের পিতা জানান, ঘটনার সময় অন্য অনেকের সাথে মারুফও বাইরে কী হচ্ছে তা দেখতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সেও গুলিবিদ্ধ হয়।

এলাকাবাসী জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ৪০ থেকে ৪৫ জনের একদল সন্ত্রাসী ফেনী সদরের মহিপালের মধ্যম চাঁড়িপুর এলাকায় তিন ভাগে ভাগ হয়ে এলাহী বক্স কলোনীর ওপর এলাপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। এর মধ্যে এলাকার গাড়িচালক স্থানীয় আলী আকবরের ছেলে মাইন উদ্দিন (৪৫), লোকমান হোসেনের মেয়ে আকলিমা আক্তার (১৫) ফেনী সদর হাসপাতালে মারা যায়। আর গুলিবিদ্ধ শিশু মারুফ (৬), সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও আলাউদ্দিনকে (৩০) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার গভীর রাতে মারুফও মারা যায়। বাকিরা বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এলাহী বক্স কলোনীতে ১৬টি পরিবার বাস করে। আহতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম সেখানে একটি ফার্মেসী পরিচালনা করেন। ঘটনার সময় তিনি দ্রুত দোকান বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানার ওসি মো. মাহবুব মোরশেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হামলার ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ২৪-২৫ জনকে আসামি দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, নিহত মাইনের ছেলে মোমিনুল হক নয়ন বাদী হয়ে শুক্রবার মামলাটি করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।