জামালপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

জামালপুরঃ জামালপুরের আরামনগর বাজার এলাকায় গতকাল শনিবার রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। ওই সময় উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ও ৫টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ শতাধিক দোকান, ১০টি মোটর সাইকেল ও ২টি প্রাইভেটকার ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধ শতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আজ রবিবার দুপুরে সরিষাবাড়ীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। এদিকে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে আজ সারাদিন
আরামনগর বাজারে ধর্মঘট পালন করেছে বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ীরা।
দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম অভিযোগ করেন, পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ বিএনপির দলীয় কার্যালয় ও দোকানপাটে বর্বরোচিত হামলা চালায়। আওয়ামী লীগ এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের সহায়তায় তারা পৌর নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী একে এম ফয়জুল কবীর তালুকদার শাহীন বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়তে হুমকি দিচ্ছে। তাই নির্বাচনের দিন কোন বাধা আসলে হয় মরবো, না হয় মারবো।
এ সময় সম্মেলনে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপি নেতারা সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।
একই দিন সকালে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রোকনুজ্জামান। তিনি জানান, কোন কারণ ছাড়াই বিএনপি মেয়র প্রার্থী শাহীন তালুকদারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা করা হয়। বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশে মিছিলে গুলিবর্ষণ করলে আমার একটি কান স্তব্ধ হয়ে যায়। তারা বিশৃঙ্খলা করে আওয়ামী লীগের বিজয়কে নস্যাৎ করতে চেষ্টা করছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা বলেন, বিএনপি তাদের কার্যালয় নিজেরাই ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের কাঁধে দোষ চাপাতে চেষ্টা করছে। বিএনপি কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল ছিনতাই, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। বিএনপি নির্বাচনের দিন হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বিজয়ের অপচেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার ওসি বিল্লাল উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় কোন গুলিবর্ষনের ঘটনা ঘটেনি। তবে মিছিলে হামলা ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রোকুনজ্জামানকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে তার বড়ভাই সাইফুল ইসলাম টুকন বাদী হয়ে রবিবার সকালে সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী একে এম ফয়জুল কবীর তালুকদার শাহীন, জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আজিজুল কবীর তালুকদার হুমায়ুনসহ বিএনপির ৯৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।