দক্ষিণ এশিয়ায় স্যানিটেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ এগিয়ে

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্যানিটেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।
স্যানিটেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সন্তোষজনক অগ্রগতি লাভ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুস্থ জাতি গঠনে সকলের জন্য টেকশই স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
আজ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ষ্ঠ সাউথ এশিয়ান কনফারেন্স অন স্যানিটেশন (স্যাকোসান) এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশে উন্মুক্ত স্থানে মল ত্যাগ করার হার কমে ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, গত ১২ বছরে স্যানিটেশনে ব্যবস্থায় বাংলাদেশ যুগান্তকারী সাফল্য ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে স্যানিটেশনে সুবিধা খুবই কম। এ কারণে এ অঞ্চলে শিশু মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনে এ অঞ্চলে এ বিষয়টি অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
স্যানিটেশনে বাংলাদেশে বিভিন্ন অগ্রগতি তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার স্যানিটেশন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের জন্য ১৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল মেয়াদী এ পরিকল্পনায় পাঁচ বছর পর পর এর অগ্রগতিমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও রয়েছে। সেই দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, স্যানিটেশন ব্যবস্থায় বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়েই এবার ঢাকা ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন গঠনে নীতিনির্ধারণী কৌশল ঠিক করা সহজ হবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে যে সুপারিশগুলো করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে টেকসই ও গুণগত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে এবং এ অঞ্চলের সুস্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করবে।
মন্ত্রী বলেন, শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না, স্যাকোসানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে সুপারিশমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই ঢাকা ঘোষণা কার্যকর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পল্লী উন্নয় ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাতিসংঘের প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বিগবার্ডার, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি প্যারামেসোয়ারান ল্যায়ার ও সার্কের মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা। এছাড়া আফগান্তিান, ভুটান, ভারত, মালদীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে ‘ঢাকা ঘোষণা’ দেন বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের পলিসি সাপোর্ট ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক কাজী আবদুল নূর।
১১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৩ দিনব্যাপী স্যাকোসান সম্মেলন ১১ দফা ঘোষণার মধ্যদিয়ে আজ ঢাকায় শেষ হয়।