মূল সংবাদে যান
২৩ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

বড় লক্ষ্যমাত্রায় বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে এনবিআর

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬১ বার পঠিত

national revenue board

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকমঃ

চলতি অর্থবছরের সাত মাস অতিক্রম করতে না করতেই আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

 

প্রতিবছর মার্চ মাসে কাজ শুরু করলেও এবার একটু আগেভাগেই বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

আগামী বাজেটে মূল্য সংযোজন কর মূসক বা ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন, নতুন করদাতার সংখ্যা বাড়ানো, অর্থপাচার রোধ, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনা বন্ধ এবং সমুদ্রবন্দরে আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য খালাস ও গ্রহণে স্বচ্ছতা আনতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত এ বিষয়কে সামনে রেখে কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি বিষয় আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে বাজেট বাস্তবায়ন ফোরামের (বিআইএফ) ২১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এতে চলতি অর্থ বছরের বাজেট বাস্তবায়ন ও আগামী বাজেটের এনবিআরের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এনবিআর সূত্রে আরো জানা যায়, চলতি অর্থ বছরের লক্ষ্যমাত্রার চাইতে অবশ্যই আগামীতে লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে এনবিআর কিভাবে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছবে তার আগাম পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে গত ৬ জানুয়ারি এনবিআর থেকে বিভিন্ন কর অঞ্চল, কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এবং কাস্টমস হাউসে চিঠি পাঠিয়ে চলতি মাসের মধ্যে আগামী বাজেট সম্পর্কিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া চেয়ারম্যানের দফতর থেকে চলতি মাসের মধ্যে আয়কর, ভ্যাট এবং শুল্ক শাখা থেকেও আগামী বাজেট সম্পর্কিত মতামত চাওয়া হয়ে। বাজেট সম্পর্কিত এনবিআর কর্মকর্তাদের এসব প্রস্তাব নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান আয়কর, মূসক ও শুল্ক শাখার সদস্যদের সঙ্গে আরো বৈঠকে বসবেন বলেও সূত্র জানায়।

 

বিগত বছরগুলোতে জুন মাসের আগে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারের অর্থমন্ত্রী জাতীয় বাজেট প্রস্তাব ঘোষণা করে থাকেন। এরপর জুন মাসব্যাপী বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সংযোজন-বিয়োজন করে বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়। এনবিআর কর্মকর্তাদের মতামত নেওয়ার পর বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছ থেকে আগামী বাজেট সম্পর্কিত মতামত চাওয়া হবে। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের কাছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনকে আগামী বাজেটে কোন কোন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে মতামত পাঠাতে এনবিআর থেকে পরবর্তীতে জানানো হবে।

 

এনবিআর সূত্র জানায়, আগামী বাজেটে ভ্যাট আইন সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা এনবিআরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ছকে প্রস্তুত ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এনবিআরের দূরত্ব এখনো দূর হয়নি। এ আইনের অনেক ধারা-উপধারা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের আপত্তি রয়েছে।

 

অন্যদিকে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার আইএমএফের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। ভ্যাট বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীও অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী অনলাইনে ভ্যাট আদায়েও বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এনবিআর।

 

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবছর বাজেট প্রণয়নের সময় এনবিআর কর্মকর্তা হিমশিম খেতে হয়। তাই এবার একটু আগেভাগেই বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।