মূল সংবাদে যান
২৩ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

নিজেদের কোন্দলেই খালেদার গাড়িবহরে হামলাঃ ড. হাছান মাহমুদ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৩ বার পঠিত

dr hasan mahmud
ঢাকা: নির্বাচনী প্রচারণার নামে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অপতৎপরতায় সিটি নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ যাতে বিনষ্ট না হয় তাই নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নিয়ে নিজেদের কোন্দলনের কারণেই গতকাল খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বেগম খালেদা জিয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পানি ঘোলা করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। গত সোমবারের ঘটনা সেই অপচেষ্টারই অংশ। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন সিটি নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হবেন। বেগম খালেদা জিয়া গুলশান অফিসে নিজেকে নিজে অবরুদ্ধ করে রেখে যেমন নাটক সাজিয়েছিলেন, গতকালের ঘটনাও ভিন্ন আরেকটি নাটক।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে আমরা বহু আগে থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার এই অপতৎপরতা সম্পর্কে সভা-সমিতির মাধ্যমে সতর্ক করেছিলাম। তাই নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানাবো সিটি নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ যাতে বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণার নামে অপতৎপরতায় বিনষ্ট না হয়, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘গত ৩ মাসের বেশি সময় ধরে বেগম খালেদা জিয়া দিনের পর দিন হরতাল এবং অবরোধ ডেকে ঢাকাসহ সমগ্র দেশের মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। কয়েক হাজার মানুষ পেট্রোলবোমা ও বোমার আঘাতে আহত হয়েছে। দেশের জনগণ তার এই সমস্ত জনবিরোধী জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য তার উপর প্রচণ্ডভাবে বিক্ষুব্ধ। তিনি বলেছিলেন- সরকারের পতন ছাড়া ঘরে ফিরে যাবেন না। তিনি এই সহিংসতার মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে না পেরে এখন নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছিলাম বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় নামলে বিক্ষুব্ধ জনগণ তাকে প্রতিরোধ করতে পারে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। গত কয়েকদিন ধরে বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণার জন্য যেখানেই গেছেন সেখানেই জনগণ তার প্রতি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘গত সোমবার বেগম খালেদা জিয়া পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত না করেই প্রচারণায় বের হয়েছিলেন। কাওরান বাজারে গেলে সেখানে যখন জনগণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তখন তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সিএসএফ-এর সদস্যরা হঠাৎ গুলিবর্ষণ করে। এতেই সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া আমরা জানতে পেরেছি বিএনপি কাওরান বাজার এলাকায় (২৬নং ওয়ার্ড) যে কাউন্সিলার প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছে সেখানে আরো অনেকেই বিএনপির সমর্থন চেয়েছিল। তারা বিএনপির সমর্থন না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়েছে। গতকালের ঘটনায় তাদেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।’

এ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সুজিত নন্দী, এনামুল হক শামীম কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক শাহে আলম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যায় ৬টার দিকে কাওরান বাজারে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালায় একদল লোক। এসময় বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ/ এম ইউ