মূল সংবাদে যান
১১ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন

এন্টার্কটিকায় দেড় লাখ পেঙ্গুইনের মৃত্যু

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৯৫ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকমঃ

এন্টার্কটিকায় পেঙ্গুইন কলোনিতে ২০১১ সাল থেকে হিমশৈলিতে আটকা পড়ে কমপক্ষে দেড় লাখ পেঙ্গুইনের মৃত্যু হয়েছে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। মূলত খাদ্য অনুসন্ধানের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়েই তাদের মৃত্যু হয়।

 

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের গবেষকরা সায়েন্স জার্নালে জানান, পূর্ব এন্টার্কটিকার কমনওয়েলথ উপসাগরের কছে একশ বর্গ কিলোমিটর আয়তনের বি ০৯ বি হিমশৈলিটি ২০১০ সালের দিকে এসে এখানে আটকে যায়।

 

উপসাগরের ক্যাপ ডেনিসন নামে পেঙ্গুইন কলোনিতে ২০১১ সালেও এক লাখ ৬০ হাজার এডেলি পেঙ্গুইন ছিল। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এসে এ সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে কমে মাত্র ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুই বছরেই মারা গেছে দেড় লাখ পেঙ্গুইন।

 

উপকূলীয় এলাকায় হিমশৈলিটি আটকে থাকার কারণে পেঙ্গুইনদের জন্য এ অঞ্চলে খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। খাদ্য অনুসন্ধানের জন্য ঘুরপথে পেঙ্গুইনগুলোকে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘ এই সময়গুলোতে প্রজননও বাধাগ্রস্ত হয়। আর এই কারণেই দলে দলে পেঙ্গুইন মারা যাচ্ছে, কিন্তু সে অনুপাতে প্রজনন হচ্ছে না। ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের (ইউএনএসডব্লিউ) ক্লাইমেট চেঞ্জ রিসার্চ সেন্টার ও নিউজিল্যান্ডের ওয়েস্ট কোস্ট পেঙ্গুইন ট্রাস্ট এমনই তথ্য জানিয়েছে।

 

গবেষকরা জানান, বি ০৯ বি হিমশৈলি অঞ্চল থেকে যদি স্বাভাবিকভাবে সরে না যায় তাহলে উপকূলে থাকা বহুবর্ষজীবীর  (যেসব খেয়ে পেঙ্গুইন বেঁচে থাকে) অভাব দেখে দেবে। এতে আগামী ২০ বছরের মধ্যে ক্যাপ ডেনিসনের সমস্ত পেঙ্গুইন মরে শেষ হয়ে যাবে।

 

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে পেঙ্গুইন গণনা অনুযায়ী, হাজার হাজার পরিত্যক্ত ডিম শনাক্ত করেছেন গেবষকরা। এছাড়া ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া অনেক মৃত পেঙ্গুইন চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের গবেষক ক্রিস টার্নি শুক্রবার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকাকে বলেন, এক সময় ওই অঞ্চল পেঙ্গুইনদের কলকাকলিত মুখরিত ছিল। এখন আর তাদের শব্দই পাওয়া যায় না। তারা কেমন যেন শান্ত, ভদ্র আর বিমর্ষ। সাদা-কালো প্রাণিটি; ‘কোট পড়া ভদ্রলোক’গুলো আর চনমনে পায়ে ঘুরে বেড়ায় না।

 

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি অনলাইন।