মূল সংবাদে যান
১০ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন

প্রধান বিচারপতিকে ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকের চিঠি

ডেস্ক রিপোর্ট ৯৩ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

ঈদের আগে আটককৃত ছাত্রদের জামিনে মুক্তির দাবি জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক চিঠি দিয়েছেন।

শনিবার ধানমন্ডি গণস্বাস্থ কেন্দ্রে ঈদের আগে গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রদের জামিনে মুক্তির ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকের প্রদত্ত চিঠি প্রসঙ্গে’ এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চিঠি পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে লেখা এই চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে সম্প্রতি সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, পেনাল কোডসহ বিভিন্ন আইনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অর্ধ শতাধিক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের আদালতে হাজির করা হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদালত তাদের পুলিশ রিম্যান্ডে প্রেরণ করেছে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলার কথা বলেছে তা কয়েক মাস থেকে কয়েক বছরের পুরোনো এবং মামলাগুলো রাজনৈতিক হয়রানীর জন্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি ও সামনের ঈদ সর্বোপরি ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমাদের সন্তানতুল্য এই ছাত্ররা অবিলম্বে জামিনে মুক্তি পাওয়ার অধিকারী বলে আমরা মনে করি। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে নিম্ন আদালতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে তারা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

এই অবস্থায় প্রধান বিচারপতির কাছে ৩টি আবেদন পেশ করা হয়। আবেদনগুলো হলো:- গত দুইমাসে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সকল ছাত্রদের আগামী রোজার ঈদের আগে জামিন প্রাপ্তির জন্য আপনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, এরমধ্যে রিমান্ডে ও করোনাকালীন সময়ে তাদের প্রতি কোনো নিপীড়ন হচ্ছে কিনা তা তদন্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যার বিরুদ্ধে কটুক্তি বা মানহানি করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ সংক্ষুদ্ধ হয়ে মামলা করতে পারবে না এ ধরনের নির্দেশনা প্রদান করুন।

চিঠিতে স্বাক্ষার করছেন, ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান, আ. স. ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক পারভীন হাসান, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, নারী নেত্রী শিরিন হক, লেখক-নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং জোনায়েদ সাকি।

সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালী অংশ নিয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ছাত্রদের জামিন দেয়া উচিৎ। জামিন একটা অধিকারের ব্যাপার। বিশেষ করে ছাত্র সমাজ ঐতিহাসিক ভুমিকা রেখে এসেছে। তারা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে জনমত গঠন করে ও আন্দোলন করে। সেইগুলোকে আমরা সব সময় উৎসাহিত করেছি এবং এখনো সেটা হওয়ার কথা। অতীতে নিন্ম আদালত সাহসী ভুমিকা রেখেছে, অনেক সময় তারা জামিন দিয়েছে। উচ্চ আদালত পর্যন্ত আসতে হয়নি। জামিন সবারই অধিকার এবং জামিন পাওয়ার অধিকার সবারই আছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। বিচারে দীর্ঘ প্রক্রিয়া সবচেয়ে বড় অত্যাচার। আজ এক মাস হয়ে গেছে এখনো মামলা উঠে না। একই ধরনের মামলা ৫টা দিয়ে রেখেছে। ৫ টার জন্য জামিন নিতে হয়। এ জায়গায় প্রধান বিচারপতির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। কয়দিন পরে ঈদ। ঈদের পূর্বে প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক শক্তির বলে এসব ছাত্রদের জামিনের ব্যবস্থা করতে বলেছি।