মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রয়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান থেকে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৭৫ বার পঠিত

মুক্তিযোদ্ধারকণ্ঠ ডেস্কঃ চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর রাষ্ট্রয়াত্ত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মুনাফা সাত হাজার ৪৭০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বেড়েছে।

এর আগে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ৪৮ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হয়েছিল চার হাজার ৩১৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর মোট মুনাফা হয়েছে ১১ হাজার ৭৮৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। তবে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের চেয়ে চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর লোকসানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। যেখানে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর লোকসানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৮টি চলতি অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। তবে লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সমীক্ষা ২০১৬’-এ এসব পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সময়মত জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) স্মরণকালের সবচেয় বেশি মুনাফা করেছে। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের অন্যতম লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরও সংস্থাটি প্রায় দুই হাজার ৩২১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর তারা লোকসান কাটিয়ে মুনাফা করে। এ বছর তাদের মুনাফা দেখানো হয়েছে চার হাজার ১২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), বিএফআইডিসি, ঢাকা ওয়াসা, সিপিএ, কেডিএ, বিআইডব্লিউটিএ, বিসিআইসি, বিডব্লিউডিবি কিছু মুনাফার মুখ দেখেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ৮  প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমেছে  ৯৬৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে চলতি অর্থবছর লোকসানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টি। রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ১১টি প্রতিষ্ঠানের মোট লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ হাজার ৬৮৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রয়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট লোকসানের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৬৫০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। শীর্ষ লোকসানি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায, পিডিবি প্রতিবছর লোকসান দিয়ে আসছে। তবে চলতি অর্থবছর তাদের লোকসান ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের চেয়ে কিছুটা কমেছে। গত অর্থবছর সংস্থাটির লোকসান ছিল ৭ হাজার ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে পিডিবির লোকসান দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ২৩৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। যা ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা কম।

লোকসানের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৭২৬ কোটি ৫ লাখ টাকা।

গত দশ বছরের মধ্যে ২০১০-১১ অর্থবছরে বিজেএমসি মাত্র একবার সাড়ে ১৪ কোটি টাকা মুনাফা করে।

তৃতীয় লোকসানি প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। এবার সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। গত অর্থবছর সংস্থাটি ৫৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছিল। গত দশ বছরে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে বিএসএফআইসি মাত্র একবার ৩৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) লোকসান ৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকা (গত অর্থবছরে লোকসান দিয়েছিল ২৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা), বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) লোকসান ২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা, বিএফএফডব্লিউটি এর লোকসান ১১ কোটি ২৯ লাখ টাকা (গত অর্থবছরে লোকসান দিয়েছিল ৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার (বিএফডিসি) লোকসান ১০ কোটি ৬১ লাখ টাকা (গত অর্থবছরে লোকসান দিয়েছিল ৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা), বিআরটিসির লোকসান ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা (গত অর্থবছরে লোকসান দিয়েছিল ৬৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা), সড়ক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) লোকসান ৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা (গত অর্থবছরে লোকসান দিয়েছিল ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা) এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) লোকসান এক কোটি ৮৩ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে।

 

মুক্তিযোদ্ধারকণ্ঠ ডটকম/ ০৭-০৬-২০১৬ইং/ মোঃ হাছিবুর রহমান