মূল সংবাদে যান
১০ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন

মণ্ডপে গানের জেরে পূজা কমিটির নেতা ও ছয় গায়কের বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট ২০৫ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ
মণ্ডপে গানের জেরে পূজা কমিটির নেতা ও ছয় গায়কের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম মহানগরীর জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে ইসলামি গান পরিবেশন করার ঘটনায় পূজা উদযাপন কমিটি এক নেতা ও ছয় গায়কের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফজলুল কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় এ মামলা করেন চট্টগ্রাম মহানগরী পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন। মামলার আসামিরা হলেন- পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্ত, গান পরিবশেন করা চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির সদস্য শহীদুল করিম, মো. নুরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ ইকবাল, রনি, গোলাম মোস্তফা ও মো. মামুন।

এর মধ্যে ঘটনার দিন রাতে আটক হওয়া শহীদুল করিম ও মো. নুরুল ইসলামকে গান পরিবেশন করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও গোলমাল সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। মামলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের এক পূজামণ্ডপে ইসলামি গান গাওয়া নিয়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়। চট্টগ্রাম নগর পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের আহ্বানে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি নামে একটি সংগঠন ওই পূজামণ্ডপে গান করতে যায়। তবে গান গাওয়ার পরে সনাতন ধর্মের মানুষদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনায় পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি লায়ন আশীষ ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। একই সঙ্গে ইসলামি গানের দলকে পূজামণ্ডপে গানের সুযোগ করে দেওয়ায় পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্তকে পরিষদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শচীন্দ্র নাখ বাড়ৈর সই করা এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, সজল দত্ত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহানগর পূজা পরিষদ আয়োজিত সাংস্কৃতিক মঞ্চে চট্টগ্রাম কালচার একাডেমি নামক একটি সংগঠনকে গান করার সুযোগ দেন। ওই সংগঠনের ছয় যুবক মঞ্চে উঠে বাদ্যযন্ত্র ছাড়া উপস্থিত সবার সামনে ইসলামি দাওয়াতি গান পরিবেশন করেন। তারা এ কাজের মাধ্যমে ধর্ম অবমাননা করেন এবং এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। এ ঘটনার জন্য আপনিই দায়ী। তাই সংগঠনের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনাকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হলো।

এদিকে, চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির সভাপতি সেলিম জামানও দাবি করেছেন, পূজা উদযাপন পরিষদের সজল দত্ত প্রায় ১০ দিন ধরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। আমাদের কয়েকজন সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেখানে যান। আজ তিনি ফোন করে বলেন- আপনারা একটু আসেন। আপনাদের একটু ফ্লোর (সুযোগ) দেবো। কিছু দেশাত্মবোধাক গান গাইবেন। সে আমন্ত্রণে গিয়ে আমাদের দলটি দুটি সম্প্রীতির গান পরিবেশন করে। কিন্তু এ নিয়ে একটা পক্ষ প্রচারণা চালাচ্ছে যে ষড়যন্ত্র করতেই আমরা গান করতে গিয়েছি। আমরা তো জোরপূর্বক কিছুই করিনি। দাওয়াত পেয়েই গিয়েছিলাম।