দেশে ফিরলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ‘ফাঁসির মঞ্চে’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার ঢাকার কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এনসিপির এক আলোচনা সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে আসেন, তারেক রহমান যদি দিল্লির সঙ্গে সমঝোতা করে তাকে দেশে আসার ব্যবস্থা করেন, তাহলে আমরা প্রস্তুত আছি। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে।
“চৌদ্দশ শহীদ পরিবার, ৩০ হাজার আহত যোদ্ধা নেমে আসবে; ফাঁসি কার্যকর না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথে অবস্থান করব।”
‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শিরোনামে এ সভা হয়। সভার পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানায় দলটি।
অনুষ্ঠানে এনসিপি প্রধান বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। আমরা ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা’ বিলোপের ঘোষণা করেছিলাম। আমরা দেশকে আবার কোনো স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য হতে দেব না।”
নাহিদ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর আজ। শহীদ মিনার থেকে এক দফা ঘোষণা হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক দিনটি আমরা শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে কাটাতে চাই। কারণ আমরা মনে করি, এক দফার আসল কারিগর জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা।”
জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনীতিতে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
জুলাই আন্দোলনে সামনের সারির এই ছাত্রনেতা বলেন, “পরিবর্তন একটা হয়েছে, তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। গত দুই বছর দেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
“তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেছেন পাঁচ মাস হচ্ছে। কিন্তু গত দুই বছর বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে ভূমিকা রেখেছে।”
সভায় অন্যদের মধ্যে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু, মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম ও শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগম বক্তব্য রাখেন।