কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার একটি মাছের ফিশারি থেকে অনিক মিয়া (৩৫) নামের এক পুলিশের সাবেক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের বেরুয়াইল গ্রামের একটি ফিশারি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অনিক মিয়া সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের বেরুয়াইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে। কয়েক বছর আগে তিনি পুলিশের চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন এবং মাছ চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। পাশাপাশি গবাদিপশুও পালন করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে অনিক মিয়া নিজের ফিশারির পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা ফিশারিতে গিয়ে দেখতে পান কাটা ঘাস এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে, কিন্তু অনিক মিয়ার কোনো খোঁজ নেই।
এ সময় স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে ফিশারি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে ফিশারির পানিতে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের অনেকেই জানান, অনিক মিয়া শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং মাছ চাষ নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।