মূল সংবাদে যান
২৯ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

সংকট থাকলে বিরোধীদলের লং মার্চে ১ লাখ লিটার তেল কোথায় পাবে, প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৪৪ বার পঠিত ৫ মিনিটের পাঠ
সংকট থাকলে বিরোধীদলের লং মার্চে ১ লাখ লিটার তেল কোথায় পাবে, প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর

বিরোধীদলের উদ্দেশে অনুরোধ রেখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সস্তা জনপ্রিয়তা নেওয়ার জন্য জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। তিনি বলেন, আমরা হিসাব করে দেখেছি, তারা ৫ তারিখের পর লংমার্চে যাবে এবং লংমার্চে যে পরিবহন ব্যবহার করবে, সেখানে ১ লাখ লিটার তেল তারা ব্যবহার করবে। জ্বালানির যদি সমস্যাই হয়, তাহলে বিরোধীদল এই ১ লাখ লিটার তেল কোথায় পাবে? নিশ্চয়ই তেলের সমস্যা নাই এবং তেলগুলো তারা গাড়িতে উঠিয়েই লংমার্চে যাবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৫ আগস্ট জানিয়েছেন, ছয় দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

পরওয়ার জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চে অন্তত এক হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। পথে আরও গাড়িবহরে যোগ দেবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নয়টি জেলা ও মহানগরীর জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পথে ছয়-সাতটি স্থানে শীর্ষ নেতাদের পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লংমার্চের ছয়টি প্রধান দাবি হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদল রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে এবং তারা একটি লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, এ ব্যাপারে সরকারের ভাবনা জানতে চাইলে শাহে আলম বলেন, বিরোধীদলের কর্মসূচি মোকাবিলা করার কিছু নাই। তারা গণতান্ত্রিক পন্থায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে এ ব্যাপারে সরকার সহায়তা করবে যেহেতু এটা গণতান্ত্রিক সরকার। তবে আমি এইটুকুই বলবো যে, মঞ্চের পেছনে ফ্যান চালিয়ে আপনি যদি বলেন যে, বিদ্যুৎ নাই দিতে হবে—এই জিনিসটা সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে, যোগ করেন তিনি।

শাহে আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য সাময়িক যে অসুবিধা ছিল, এ ব্যাপারে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

তিনি জানান, চলতি সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিষয়ে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করবেন। তখনই জাতির কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পরিকল্পনা কী, যোগ করেন তিনি।

চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—পাঁচটি অর্ডিন্যান্স সংসদে আইন আকারে পাস হয়েছে। সেখানে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান আমরা বিলুপ্ত করেছি। এখন এই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সাধারণ প্রতীকে এবং নির্দলীয়ভাবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্যই তাদের রাজনীতিকে ঠিক রাখার জন্য কোনো না কোনো প্রার্থীকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার গুলশান অফিসে দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলেও জানান তিনি।

আলম বলেন, জেলা ও উপজেলা বিএনপি ঠিক করবে, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাকে আমরা সমর্থন দেবো।

গত ১৭ বছর নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই-সংগ্রাম করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তি দলীয় সমর্থনে অগ্রাধিকার পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, মাঠে ছিল, মামলা খেয়েছে, হয়রানি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভোটে জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে—এ ধরনের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।

তিনি আরও জানান, আন্দোলনে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু নির্বাচনের মাঠের অভিজ্ঞতাটা খুবই কম—এ ধরনের প্রার্থীকে আমরা অন্য জায়গায় অ্যাকমোডেট করব, সমর্থন হয়তো দেবো না। আবার ভোটের মাঠে অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু ১৭ বছর খুঁজে পাওয়া যায়নি, এ ধরনের প্রার্থীকেও সমর্থন না দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অনুশাসন রয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আমরা কোনো রকম প্রভাব বিস্তার করব না।

তিনি বলেন, একদম অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, এই নির্বাচন করার ব্যাপারে সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে আমরা ১০০ ভাগ সহায়তা করব। কোনোক্রমেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এর বাইরে অন্য কিছু না হয়, এ ব্যাপারে আমাদের ১০০ ভাগ নজর থাকবে।

দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ নির্বাচনে দাঁড়ালে বহিষ্কার করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় বিএনপি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্র থেকে যেহেতু মনোনয়ন বা সমর্থন দেওয়া হচ্ছে না, সেহেতু কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারও করা হবে না।