২০-৪০ বছর বয়সিদের বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি, জানুন ৫ সতর্ক সংকেত
স্ট্রোককে সাধারণত বয়স্কদের রোগ হিসেবে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ২০, ৩০ ও ৪০-এর কোঠায় থাকা তরুণদের মধ্যেও এ রোগের ঘটনা বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ধূমপানসহ বিভিন্ন কারণে তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি বাইরে থেকে সুস্থ ও কর্মক্ষম দেখালেও অনেকের শরীরে অজান্তেই বিভিন্ন ঝুঁকি থাকতে পারে।
নিউরোসার্জনরা জানান, স্ট্রোকের রোগীদের বয়সের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে ৪০ বছরের নিচে কারও স্ট্রোক হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকসহ বিভিন্ন রক্তনালিসংক্রান্ত রোগের প্রবণতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞের মতে, কর্মব্যস্ততা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে অল্প বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও স্থূলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং মাদক গ্রহণ যুক্ত হলে স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ কারণে ৩৫ বছর বয়স থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তবে শুধু জীবনযাপনই স্ট্রোকের ঝুঁকির জন্য দায়ী নয়। পরিবারে অল্প বয়সে স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। একইভাবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা বংশগত কিছু রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাও তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। যাদের পরিবারে এ ধরনের রোগের শক্তিশালী ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করা উচিত।
স্ট্রোকের লক্ষণ অনেক সময় মাইগ্রেন বা উদ্বেগজনিত সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে যেতে পারে। তবে এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো হঠাৎ করে উপসর্গ দেখা দেওয়া, বিশেষ করে শরীরের এক পাশে।
বিশেষজ্ঞের মতে, নিচের পাঁচটি লক্ষণ হঠাৎ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়—
১. হঠাৎ ভারসাম্য হারানো, মাথা ঘোরা বা হাঁটার সময় একদিকে কাত হয়ে যাওয়া।
২. হঠাৎ এক বা দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখা।
৩. হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা মুখের এক পাশ দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে লালা পড়া।
৪. হঠাৎ এক হাত বা পায়ে দুর্বলতা, ভারী লাগা কিংবা অসাড়তা অনুভূত হওয়া।
৫. হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বলতে না পারা কিংবা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই হঠাৎ এসব লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।