নরসিংদীতে বিষপানে মা ও মেয়ের মৃত্যু, আটক বাবা
নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্য বিষপান করেছেন। এর মধ্যে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার বেলা সোয়া ১টার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান।
শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, “গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আড়াই বছর বয়সী এক ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।”
এ ঘটনায় শিশুদের বাবা মিলন মিয়াকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মৃতরা হলেন- ঊর্মি বেগম (২২) ও তার মেয়ে মিম আক্তার (৫)।
চিকিৎসাধীন আড়াই বছরের ছেলের নাম আবির হোসেন। উর্মির স্বামী মিলন পেশায় গাড়িচালক।
তারা মাধবদী থানার কান্দাপাড়া এলাকার শেফালী বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ওসি কামাল হোসেন বলেন, “পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঊর্মি ও মিলনের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে মিলন ঊর্মিকে জুতা দিয়ে আঘাত করে। এর জেরে ঊর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান।
“পরে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে তিনি ‘হারপিকের মতো বিষাক্ত তরল পান’ করেন এবং দুই শিশুকেও তা পান করান। এতে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন।”
তিনি বলেন, “পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকে ঊর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
“শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মিম ও আবিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবিরকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন।”
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মিলনকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার দুপুরে তাকে নরসিংদী আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ওসি বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।