মূল সংবাদে যান
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ার করুন

রোহিত-কোহলির অবসর গুঞ্জনের মাঝে বিসিসিআইকে সতর্ক করলেন যুবরাজ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ২৯ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ
রোহিত-কোহলির অবসর গুঞ্জনের মাঝে বিসিসিআইকে সতর্ক করলেন যুবরাজ

রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখন কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটে সীমাবদ্ধ। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) অভিজ্ঞ দুই তারকাকে বিশ্বকাপ দলে রাখবে কি না তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। রোহিত-কোহলির ক্যারিয়ার নিয়ে যখন আলোচনা চলমান, তখন বিসিসিআইকে মেগা ইভেন্টটির এক বছর আগে বড় পরিবর্তন না আনার সতর্কবার্তা দিলেন যুবরাজ সিং।

ভারত ঘরের মাঠে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আন্তর্জাতিক সূচি শুরু করতে যাচ্ছে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে। যেখানে তারা শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তারা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। আফ্রিকা মহাদেশে ২০২৭ বিশ্বকাপের এক বছর আগে এই সিরিজকে প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতীয় দলে রোহিত-কোহলির জায়গা নিয়ে গুঞ্জন আছে। বিশেষত সাম্প্রতিক সিরিজগুলোর রোহিতের পারফরম্যান্স সমালোচনার জন্ম দেয়।

এর মধ্যেই ভারতীয় দলের ম্যানেজমেন্টকে সতর্ক করেছেন সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ। আগামী ১৩ মাসে স্কোয়াডে ক্রিকেটার বাছাইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন না আনার পরামর্শ দিয়েছেন ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী এই ক্রিকেটার। তিনি ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘তাদের মনোযোগ দিতে হবে এমন একটি দল গড়ে তোলার দিকে, যারা এক বছর পরেও একসঙ্গে খেলবে। কারণ শেষ মুহূর্তে আপনি বড় পরিবর্তন করতে চাইবেন না। আপনার খেলোয়াড় ১৬ জন হোক বা ২০ জন, সবার ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’

যুবরাজ বলেন, ‘এখন ৫০ ওভারের ম্যাচের তুলনায় টি-টোয়েন্টি বেশি হচ্ছে। তাই যতগুলো ওয়ানডে ম্যাচ আছে, সেগুলোয় খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলা জরুরি, যাতে তারা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’ ২০১১ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার পাওয়া যুবরাজ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে বড় ধরনের পরিবর্তন করলেই অতীতে ভারত সমস্যায় পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভারত যখনই হোঁচট খেয়েছে, তখনই শেষ মুহূর্তে অথবা টুর্নামেন্ট চলাকালে বড় ধরনের পরিবর্তন করেছে। তাই আমার মনে হয়, ২০২৭ বিশ্বকাপ জিততে পারে বলে আমরা যে দলকে বিশ্বাস করি, সেই দলটির ওপর আস্থা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তারা ব্যর্থ হোক বা সফল সেই সময় পর্যন্ত তাদের পাশে থাকতে হবে। স্কোয়াডের ওপর বিশ্বাস রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

যুবরাজের মতে, ২০২৩ সালের পর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিল দলের ধারাবাহিকতা। এই সময়ে ভারত চারটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে। ২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে তারা, এর মাঝে গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অন্যতম। এ ছাড়া ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল ভারত।

যুবরাজ বলেন, ‘গত দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আমরা সেটাই (দল গঠনে ধারাবাহিকতা) করেছি। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলেছি। তাই সাদা বলের ক্রিকেটে আমাদের অনেক ধারাবাহিকতা ছিল। তাদেরও সেটাই করতে হবে– প্রথমে সেমিফাইনালে ওঠার কথা ভাবতে হবে, এরপর শেষ দুটি (নকআউট) ম্যাচে খেলার লক্ষ্য রাখতে হবে। আমার মনে হয়, এখনও অনেক পথ বাকি। মনোযোগ হওয়া উচিত এমন একটি স্কোয়াড প্রস্তুত করার দিকে, যারা একসঙ্গে থাকবে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকবে।’