মূল সংবাদে যান
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন ৩ কূপ খনন, ৬ মাস পর মিলতে পারে গ্যাস

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬ বার পঠিত ২ মিনিটের পাঠ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন ৩ কূপ খনন, ৬ মাস পর মিলতে পারে গ্যাস

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন তিনটি কূপ খনন করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড-বিজিএফসিএল।

এসব কূপ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক।

তিনি বলেন, নতুন কূপগুলো থেকে গ্যাস পাওয়া গেলে বেশি দামে আমদানি করা এলএনজির ওপর চাপ কমবে।

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ নম্বর কূপের কাজ শেষ হয়েছে এবং ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ চলছে। ৩১ নম্বর কূপের খনন শেষ হলে একই রিগ দিয়ে ৩০ নম্বর কূপের কাজ শুরু হবে।

বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, “এখন যেহেতু দেশে জ্বালানি সংকট চলছে এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও চাইছেন গভীরতম স্তরে কী আছে, সেটা বের করার জন্য। আমাদের সার্ভে অনুযায়ী এখানে দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে।”

তিনি বলেন, “কোনো কারিগরি জটিলতা না হলে ৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ হতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল খনন শুরু হওয়া তিতাসের ৩১ নম্বর কূপটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ। এটি পাঁচ হাজার ৬০০ মিটার গভীরে খনন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চার হাজার ৬৩৭ মিটার পর্যন্ত খনন হয়েছে।

বিজিএফসিএল বলছে, তিতাসে এর আগে সর্বোচ্চ প্রায় তিন হাজার ৭০০ মিটার গভীরতা থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। নতুন কূপটির মাধ্যমে এর নিচে গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যাবে।

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। পুরোনো কূপগুলোর গ্যাসের মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদনও কমেছে।

১৯৬২ সালে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি। ১৯৬৮ সালে এখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।