নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের জন্য সুখবর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর নিয়োগ ও পদায়নের সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র জারি করতে বলা হয়েছে। এরপর ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের আদেশ জারি করা হবে।
সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা। এতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের অনুকূলে নিয়োগপত্র জারি করতে হবে। কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি করা সম্ভব না হলে এর কারণ, কোটা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত উল্লেখ করে তালিকা আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে। যোগদানের পর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়নের আদেশ জারি করা হবে। তবে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণের সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
নিয়োগপত্র জারির আগে নির্বাচিত প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তা এবং মূল আবেদনপত্রে দেওয়া অন্যান্য তথ্য ও সনদপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ ছাড়া নির্বাচিত প্রার্থীদের জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ এবং ডোপ টেস্টের রিপোর্ট যাচাই করে নিয়োগ আদেশ জারি করতে হবে। নিয়োগপত্র ইস্যুর আগে কোনো ভুলত্রুটি বা অসংগতি ধরা পড়লে, স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ না থাকলে কিংবা ডোপ টেস্টের রিপোর্ট নেতিবাচক হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র স্থগিত রাখতে হবে। এসব বিষয়ে প্রতিবেদন ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআইয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া গেলে তার অনুকূলে নিয়োগ আদেশ জারি করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়োগপত্র তৈরির ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত নমুনা অনুযায়ী প্রার্থীর নাম, মাতা, পিতা বা স্বামীর নাম, স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা মূল আবেদনপত্রের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা বাদে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং জেলা অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।