মূল সংবাদে যান
১৩ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন

মিশরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঈর্ষণীয় সাফল্য, সমাপনী অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত

আফছারুল হোসাইন ৭ বার পঠিত ৫ মিনিটের পাঠ
মিশরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঈর্ষণীয় সাফল্য, সমাপনী অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত

মিশরের বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক মিশন ইনস্টিটিউটের বালক ও বালিকা শাখার সমাপনী অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে। এবারের ফলাফলে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়ে সেরা দশে স্থান অর্জন করেছেন ৫ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। এ ছাড়া মাধ্যমিক (এসএসসি) পর্যায়েও সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য নতুন করে গৌরবের উপলক্ষ তৈরি করেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) কায়রোয় আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম অধ্যাপক ড. আহমদ আত-তাইয়্যেবের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলামিক মিশন ইনস্টিটিউটের বালক ও বালিকা শাখা থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষা সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমামের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীবিষয়ক উপদেষ্টা ড. নাহলা সাবরি আস-সাঈদি, মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইত্তিহাদ’-এর সহসভাপতি দেলোয়ার মাহমুদ খান মিল্কী, সংগঠনটির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং মিশরে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা।

অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমামের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নাহলা আস-সাঈদি, শিক্ষা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আবু আল-ইয়াজিদ সালামা এবং আল-আজহার ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির মহাসচিব ড. আবদুদ দায়িম জুনদি। তাঁরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্যে অভিনন্দন জানান। তিনি তাঁদের পড়াশোনায় সর্বোচ্চ মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ার পরামর্শ দেন, যা তাঁদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

রাষ্ট্রদূত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁদের প্রয়োজন, পরামর্শ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস সব সময় পাশে থাকবে।‌ তাঁর উপস্থিতি ও আন্তরিক বক্তব্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। বিদেশের মাটিতে শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জনের মুহূর্তে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধিকে পাশে পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ বছর ১৪৫টি দেশের দুই হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আল-আজহার ইসলামিক মিশন ইনস্টিটিউটের বালক ও বালিকা শাখা থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ জন।

এবারের ফলাফলে এইচএসসি পর্যায়ে সেরা দশে স্থান অর্জন করেছেন ৫জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন—আব্দুল্লাহ আশরাফ মাহমুদ, মুহাম্মাদ সুহাইল, রিদোয়ান আহমাদ, নাঈম উদ্দিন হাবিব, এমডি হারুন রাশেদ ও মুহাম্মাদ হুসাইন। এ ছাড়া এসএসসি পর্যায়েও সেরা দশে স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ হুসাইন।

আল-আজহার ইসলামিক মিশন ইনস্টিটিউটের বালক ও বালিকা শাখার সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরাও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বালক শাখার ডিন তামিম ফয়সাল ও বালিকা শাখার ডিন সুরাইয়া আবদুস সামিসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায়, সুন্দর আচরণ ও পড়াশোনার প্রতি আন্তরিকতার প্রশংসা করেন।

তাঁরা জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বরাবরের মতো এবারও নিজেদের যোগ্যতা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তামিম ইকবাল। সঞ্চালনায় ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার বালক ও বালিকা শাখার দুই শিক্ষার্থী।‌ এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আল-আজহার কর্তৃপক্ষের মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আল-আজহারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য তাঁদের ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্যও গৌরবের। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ কৃতিত্ব ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও একাগ্রতার সঙ্গে জ্ঞানার্জনে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখবে।