উন্নত ব্যবসার পরিবেশ বাংলাদেশকে রফতানি শক্তিতে পরিণত করতে পারে : বিশ্বব্যাংক
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্ট,
প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং বাণিজ্য ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পূর্ব এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর মত রফতানি শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। যা বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ‘সাউথ এশিয়াজ টার্ন: পলিসিজ টু বুস্ট কমপিটিটিভনেস এন্ড ক্রিয়েট দ্যা নেক্সট এক্সপোর্ট পাওয়ার হাউজ’ বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সোমবার পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের আবাসিক প্রধান চিমিয়াও ফান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি জো ওয়ারনার, যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক অধ্যাপক এসআর ওসমানী, মোহাম্মাদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবীনা হক, এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা, পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বক্তব্য রাখেন।
এতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ট্রেড এন্ড কমপিটিটিভনেস গ্লোবাল প্রাকটিস বিভাগের লিড ইকোনমিস্ট ভিনসেন্ট পলমেড।
বিশ্বব্যাংক তার প্রতিবেদনে বলেছে, গত এক দশক ধরে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৩ শতাংশ হারে রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই মোট রফতানির ৮০ শতাংশ পোশাক খাতে কেন্দ্রীভূত, যার বেশির ভাগই স্বল্প মূল্যের পণ্য-নির্ভর। বাংলাদেশকে তার পোশাক পণ্যের গুন ও মান এবং বৈচিত্র্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন শ্রমশক্তি এবং পাদুকা, হালকা প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিক্সের মত দক্ষতা নির্ভর শিল্প বহুমুখীকরণ করার মাধ্যমে এই ক্রমবর্ধমান রফতানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার অপার সম্ভাবনার কথা বর্ণনা করে প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ এশিয়া ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের এক-চতুর্থাংশেরও বেশির আবাসস্থলে পরিণত হবে। এই অনুকূল জনশক্তি, শিক্ষার বাড়ন্ত স্তর ও নগরগুলোর বর্ধিষ্ণুতার সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। প্রতিবেদনে চারটি নীতিগত ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আরো বেশি সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে, ক্ষেত্রসমূহ হলো-ব্যবসায় পরিবেশের উন্নতি, গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের সাথে সংযুক্তিকরণ, একই অবস্থান থেকে সুবিধাদি সর্বোচ্চকরণ এবং প্রতিষ্ঠাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, বিগত ৩০ বছর আগে বাংলাদেশে ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে খাদ্য ঘাটতি থাকতো। অথচ এখন আমরা খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশে প্রায় ১০ শতাংশ কৃষি জমি কমে গেছে, এরপরও আমরা এখন ৩৫ মিলিয়ন খাদ্যশস্য উৎপাদন করছি। গত ৭ বছরে খাদ্য ঘাটতির মত কোন ঘটনা দেশে ছিল না।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ /১৪ -১১-২০১৬ ইং / মো: হাছিব